বৃহস্পতিবার
১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ট্রোক থেকে বাঁচা রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কয়েক গুণ, যা বলছে গবেষণা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

স্ট্রোক থেকে বেঁচে ফিরে আসা ব্যক্তিরা (Stroke Survivors) পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ধরণের দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে 'পোস্ট-স্ট্রোক কমপ্লিকেশনস' বা স্ট্রোক-পরবর্তী জটিলতা বলা হয়।

১. পুনরায় স্ট্রোকের উচ্চ ঝুঁকি (Recurrent Stroke)

স্ট্রোক আক্রান্ত রোগীদের জন্য সবচেয়ে বড় আশঙ্কার জায়গা হলো আবারও স্ট্রোক হওয়া। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একবার স্ট্রোক হওয়ার পর প্রথম কয়েক বছর রোগীর শরীরে দ্বিতীয়বার স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

বিশেষ করে যদি পূর্ববর্তী কারণগুলো (যেমন: অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরল) নিয়ন্ত্রণে রাখা না যায়, তবে এই ঝুঁকি আরও মারাত্মক রূপ নেয়।

২. কার্ডিওভাসকুলার বা হৃদরোগের ঝুঁকি

স্ট্রোক এবং হৃদরোগের মূল কারণগুলো প্রায় একই (যেমন: ধমনী শক্ত হয়ে যাওয়া বা এথেরোস্কেলোরোসিস)। স্ট্রোকের রোগীদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর এবং অনিয়মিত হার্টবিট বা অ্যারিদমিয়ার (যেমন: অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন) মতো মারাত্মক হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

৩. স্নায়বিক ও জ্ঞানীয় জটিলতা (Cognitive Decline & Dementia)

মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হওয়ার কারণে স্ট্রোকের পর মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে রোগীদের স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, মনোযোগে ঘাটতি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

দীর্ঘমেয়াদে এটি 'ভাস্কুলার ডিমেনশিয়া' বা এক ধরণের মানসিক প্রতিবন্ধকতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

৪. শারীরিক পক্ষাঘাত ও চলাফেরার অক্ষমতা (Mobility & Motor Deficits)

স্ট্রোকের পর শরীরের একপাশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া (Hemiplegia/Hemiparesis) অত্যন্ত সাধারণ। পেশী শক্ত হয়ে যাওয়া (Spasticity) এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে না পারার কারণে রোগীদের পড়ে যাওয়া বা ফ্র্যাকচারের (হাড় ভেঙে যাওয়া) ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

৫. মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যয় (Mental Health Issues)

স্ট্রোকের রোগীরা তীব্র মানসিক ধাক্কা এবং শারীরিক অক্ষমতার কারণে বিষণ্ণতা (Post-Stroke Depression) ও তীব্র উদ্বেগে (Anxiety) ভোগেন।

হঠাৎ করে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলা এবং অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার কারণে তাদের জীবনযাত্রার মান এবং মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

৬. গিলতে সমস্যা ও পুষ্টিহীনতা (Dysphagia & Aspiration)

স্ট্রোকের কারণে অনেকের খাবার গেলার পেশীগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে, যাকে 'ডিসফেজিয়া' বলে। এর ফলে খাবার বা তরল ফুসফুসে চলে গিয়ে 'অ্যাসপিরেশন নিউমোনিয়া' হতে পারে, যা একটি প্রাণঘাতী ইনফেকশন।

এছাড়া ঠিকমতো খেতে না পারায় রোগীরা দ্রুত পুষ্টিহীনতা ও ডিহাইড্রেশনে ভোগেন।

৭. থ্রম্বোঅ্যাম্বলিজম বা রক্ত জমাট বাঁধা (DVT)

চলাফেরার ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে বা দীর্ঘ সময় বিছানায় শুয়ে থাকার ফলে রোগীদের পায়ে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি থাকে, যাকে 'ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস' (DVT) বলা হয়।

এই জমাট বাঁধা রক্ত ফুসফুসে পৌঁছে 'পালমোনারি এমবোলিজম' ঘটাতে পারে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

পরামর্শ:

স্ট্রোক-পরবর্তী এই স্বাস্থ্য ঝুঁকিগুলো কমানোর জন্য নিয়মিত চিকিৎসকের ফলো-আপ, নির্ধারিত ওষুধ সেবন, প্রফেশনাল ফিজিওথেরাপি, এবং জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন (যেমন: সুষম খাদ্য ও মৃদু শারীরিক পরিশ্রম) অত্যন্ত জরুরি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
LIVE
England VS Argentina
67'
1 - 0
55' Anthony Gordon
World Cup