

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ডোপটেস্ট বা মাদক পরীক্ষা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির শরীরে মাদকের উপস্থিতি আছে কিনা তা নিশ্চিত করা হয়।
সাধারণত মূত্র (Urine), রক্ত (Blood), লালা (Saliva) বা চুলের নমুনা পরীক্ষা করে মাদক শনাক্ত করা হয়। তবে আমাদের দেশে মূত্র পরীক্ষা (Urine Test) সবচেয়ে বেশি প্রচলিত।
ডোপটেস্টে যেসব মাদক ধরা পড়ে ও স্থায়িত্বকাল
ইয়াবা ও এমফিটামিন (Amphetamines): ইয়াবার মূল উপাদান হলো মেথামফিটামিন। সেবনের পর এটি সাধারণত প্রস্রাবে ২ থেকে ৪ দিন পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়।
গাঁজা, ভাঙ বা চড়স (THC/Marijuana): গাঁজায় থাকা টিএইচসি (THC) উপাদানটি চর্বিতে জমা থাকে। তাই এটি দীর্ঘ সময় শরীরে থাকে।
মাঝে মাঝে খেলে ৩ থেকে ৭ দিন, কিন্তু নিয়মিত বা অতিরিক্ত সেবনের ক্ষেত্রে ৩০ দিন বা তার বেশি সময় পরও ডোপটেস্টে গাঁজা ধরা পড়তে পারে।
ফেনসিডিল ও হেরোইন (Opiates/Heroin/Codeine): ফেনসিডিলের কোডিন এবং হেরোইন শরীরে প্রবেশের পর সাধারণত ২ থেকে ৪ দিন পর্যন্ত প্রস্রাবে ধরা পড়ে।
বেনজোডায়াজেপাইন (Benzodiazepines): এটি মূলত ঘুমের ওষুধ বা দুশ্চিন্তা কমানোর ওষুধ (যেমন: ডায়াজেপাম, ক্লোনাজেপাম)। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এগুলো অতিরিক্ত সেবন করলে ডোপটেস্টে ধরা পড়ে।
এটি ওষুধের ধরনভেদে ৩ থেকে ৭ দিন এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ক্ষেত্রে আঁশ-চল্লিশ দিন (৩-৬ সপ্তাহ) পর্যন্ত শনাক্ত হতে পারে।
অ্যালকোহল বা মদ (Alcohol): মদ পানের পর সাধারণত ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত প্রস্রাবে এবং রক্তে দ্রুত ধরা পড়ে। তবে বিশেষ কিছু উন্নত টেস্টে (EtG Test) ৩ থেকে ৪ দিন পরও অ্যালকোহল শনাক্ত করা সম্ভব।
চুলের নমুনা পরীক্ষার (Hair Foil Test) মাধ্যমে বিগত ৯০ দিন বা ৩ মাসের মধ্যে কোনো মাদক সেবন করা হয়েছিল কিনা, তাও নিখুঁতভাবে ধরা সম্ভব। তবে এই পরীক্ষাটি বেশ ব্যয়বহুল।
চাকরি, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা আইনগত প্রয়োজনে ডোপটেস্ট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। কোনো মাদকই শরীরে স্থায়ী হয় না, তবে এর ক্ষতিকর প্রভাব লিভার, কিডনি এবং মস্তিষ্কে দীর্ঘদিন থেকে যায়।

