সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডোপ টেস্ট কীভাবে করা হয়? ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

ডোপটেস্ট বা মাদক পরীক্ষা মূলত কোনো ব্যক্তির শরীরে ড্রাগ বা মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত করার একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। সাধারণত সরকারি বা বেসরকারি চাকরি, ড্রাইভিং লাইসেন্স, খেলাধুলা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়ে থাকে।

সম্পূর্ণ ডোপটেস্ট প্রক্রিয়াটি বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট এবং সতর্ক ধাপের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়, যেন ফলাফলে কোনো ধরনের কারচুপি বা ভুল না আসে।

প্রথম ধাপে, পরীক্ষা প্রার্থীর পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এ সময় প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা কোনো বৈধ নথির মাধ্যমে তার নাম-ঠিকানা যাচাই করা হয় এবং একটি নির্দিষ্ট ট্র্যাকিং নম্বর বা বারকোড দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় ধাপে আসে নমুনা (Sample) সংগ্রহের পালা।

ডোপটেস্টের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় মূত্র বা ইউরিন (Urine)। তবে ক্ষেত্রবিশেষে রক্ত, লালা বা চুলের নমুনাও নেওয়া হতে পারে। ইউরিন সংগ্রহের সময় জালিয়াতি এড়াতে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

যেমন- পরীক্ষাগারের টয়লেটে কৃত্রিম পানি বা অন্য কোনো রাসায়নিক মেশানোর সুযোগ বন্ধ রাখা হয় এবং ল্যাব সহকারীর উপস্থিতিতে বা কড়া নজরদারিতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

ছবি সংগৃহীত

তৃতীয় ধাপে, সংগৃহীত নমুনাটি একটি সিলগালা পাত্রে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। সেখানে প্রাথমিকভাবে 'র‍্যাপিড স্ক্রিনিং টেস্ট' কিটের মাধ্যমে নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

এই কিটগুলোর সাহায্যে মাত্র কয়েক মিনিটেই গাঁজা, ইয়াবা (অ্যামফিটামিন), মরফিন, হেরোইন বা কোকেনের মতো সাধারণ মাদকের উপস্থিতি বোঝা যায়। যদি এই প্রাথমিক পরীক্ষায় কোনো মাদকের উপস্থিতি পজিটিভ বা সন্দেহজনক আসে,

তবে চতুর্থ ধাপে নিশ্চিত হওয়ার জন্য 'কনফরমেটরি টেস্ট' করা হয়। এই ধাপে GC-MS (Gas Chromatography-Mass Spectrometry) বা LC-MS এর মতো অত্যন্ত আধুনিক ও নিখুঁত যন্ত্রপাতির সাহায্যে ল্যাবে চূড়ান্ত বিশ্লেষণ করা হয়, যা শতভাগ সঠিক ফলাফল দেয়।

সর্বশেষ ধাপে, ল্যাবরেটরির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা প্যাথলজিস্ট চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করেন। রিপোর্টে স্পষ্ট করে লেখা থাকে পরীক্ষাটি 'নেগেটিভ' (মাদকমুক্ত) নাকি 'পজিটিভ' (মাদকাসক্ত)।

পুরো প্রক্রিয়াটিতে নমুনার সুরক্ষার জন্য 'চেইন অব কাস্টডি' বা কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয়, যাতে একজনের নমুনা অন্যজনের সাথে মিশে না যায়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন