

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রক্ত পরীক্ষায় কোলেস্টেরল সামান্য বেশি এলে সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে এটিকে একেবারেই অবহেলা করাও চলবে না। বিশেষজ্ঞরা একে শরীরের একটি "আগাম সতর্কবার্তা" হিসেবে দেখার পরামর্শ দেন।
ভারতের ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. আশিশ কুমার গোভিলের মতে, কোলেস্টেরলের মাত্রা সামান্য বাড়লে শুধু জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন- যেমন ভালো খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম করার মাধ্যমেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
ভালো কোলেস্টেরল ও মন্দ কোলেস্টেরল: তফাতটা কোথায়?
কোলেস্টেরল হলো আমাদের শরীরের কোষগুলোতে থাকা মোমের মতো এক ধরণের চর্বি। এটি হরমোন, ভিটামিন ডি এবং খাবার হজমে সাহায্য করে।
রক্তে মূলত দুই ধরণের কোলেস্টেরল থাকে:
এলডিএল (LDL) বা মন্দ কোলেস্টেরল: এটি রক্তে বেড়ে গেলে ধমনীতে চর্বি জমে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এইচডিএল (HDL) বা ভালো কোলেস্টেরল: এটি রক্ত থেকে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল দূর করতে সাহায্য করে। শরীরে এর মাত্রা কমে গেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।
কোলেস্টেরল সামান্য বেশির পাশাপাশি যদি আপনার ধূমপানের অভ্যাস, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস কিংবা পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকে, তবে বিষয়টি বেশি উদ্বেগের। তখন শুরু থেকেই অত্যন্ত সচেতন হতে হবে।
ওষুধ বা স্ট্যাটিন কখন প্রয়োজন হয়?
সব সময় কোলেস্টেরল বাড়লেই ওষুধের প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসকরা মূলত দুটি বিষয় দেখে ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন:
১. জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার পরও যদি কোলেস্টেরলের মাত্রা না কমে।
২. রোগীর যদি ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের মতো অতিরিক্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার ৭টি সহজ ও কার্যকরী উপায়
সামান্য বেশি কোলেস্টেরল ওষুধ ছাড়াই নিয়ন্ত্রণে আনতে নিচের ৭টি অভ্যাস গড়ে তুলুন:
১. হৃদবান্ধব খাবার দাবার: খাবারে ফলমূল, শাকসবজি, ওটস-লাল চালের মতো গোটা শস্য এবং চর্বিহীন প্রোটিন বাড়ান। রান্নায় অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন এবং প্রতিদিন এক মুঠো আখরোট বা কাঠবাদাম খান। প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত তেল-চর্বি পরিহার করুন।
২. ফাইবারযুক্ত খাবার: ডাল, ছোলা, কালো বিন এবং তাজা ফলমূলের মতো দ্রবণীয় ফাইবার বেশি খান। এগুলো শরীর থেকে কোলেস্টেরল বের করে দিতে সাহায্য করে।
৩. নিয়মিত ব্যায়াম: সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ধরনের ব্যায়াম বা দ্রুত হাঁটাহাঁটি করুন। এটি ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং মন্দ কোলেস্টেরল কমায়।
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণ: শরীরের অতিরিক্ত ওজন সামান্য একটু কমালেও মন্দ কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা অনেকখানি কমে যায়।
৫. ধূমপান বর্জন: ধূমপান ত্যাগ করলে শরীরের ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা দ্রুত বাড়ে এবং হার্ট ভালো থাকে।
৬. অ্যালকোহল পরিহার: অতিরিক্ত অ্যালকোহল পানের অভ্যাস কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, তাই এটি এড়িয়ে চলুন।
৭. নিয়মিত চেক-আপ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত বিরতিতে রক্তের কোলেস্টেরল পরীক্ষা করুন।
কোলেস্টেরল সামান্য বেশি থাকলে শুরুতেই লাইফস্টাইল পরিবর্তন করুন এবং নির্দিষ্ট সময় পর আবার পরীক্ষা করে দেখুন। সঠিক সময়ে সচেতন হলে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি সহজেই এড়ানো সম্ভব।

