

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অনেকেই মনে করেন বাসি খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। কিন্তু সব খাবারের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।বিজ্ঞান বলছে, কিছু খাবার রান্না করার বেশ কয়েক ঘণ্টা পর মশলা, তেল এবং প্রোটিন একে অপরের সঙ্গে পুরোপুরি মিশে যাওয়ার সুযোগ পায়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ফ্লেভার ডেভেলপমেন্ট’বা স্বাদের বিবর্তন।
এমনকি Journal of Food Science and Technology -র মতে, বাসি বা ঠান্ডা খাবার থেকে এক ধরণের প্রতিরোধী স্টার্চ তৈরি হয়, যা আমাদের অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া উন্নত করে। এটি পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে।
১. গরুর মাংসের ঝোল
গরম গরম গরুর মাংসের ঝোলের চেয়ে পরদিন সকালের বাসি মাংসের স্বাদ যেন অনেক বেশি মনে হয়। এর কারণ হলো, দীর্ঘ সময় ধরে ঝোলের মধ্যে থাকার ফলে মাংসের ফাইবার বা আঁশের ভেতরে মশলা, আদা, রসুন এবং পেঁয়াজের রস পুরোপুরি ঢুকে যায়। ফলে পরের দিন ঝোলটা আরও ঘন ও সুস্বাদু হয়ে ওঠে।
২. মাছের কালিয়া
মাছের হালকা ঝোল বাসি হলে ভালো না লাগলেও, কালিয়া জাতীয় খাবার বাসি হলে স্বাদ বেড়ে যায়। জিরা, ধনিয়া, টক দই বা কাজুবাদাম বাটা দিয়ে তৈরি মাছের কালিয়া সারারাত ফ্রিজে রাখলে মাছের টুকরোর ভেতরে গ্রেভির সব নির্যাস ঢুকে যায়। পরের দিন সামান্য গরম করে ভাতের সাথে খেলে এর আসল স্বাদ বোঝা যায়।
৩. বাসি বিরিয়ানি
বিরিয়ানি রান্নার পরপরই চাল, মাংস আর মশলার সুগন্ধ পুরোপুরি রূপ পায় না। বিরিয়ানি তৈরির অন্তত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর চালের দানাগুলো মশলা এবং ঘি-চর্বির ফ্যাট পুরোপুরি শুষে নেয়। এ কারণেই বাসি বিরিয়ানির স্বাদ ও গন্ধ অনেক বেশি তীব্র ও লোভনীয় মনে হয়।
৪. ডাল মাখানি
রেস্তোরাঁর ডাল মাখানি বা ছোলার ডাল বাসি হলেই বেশি স্বাদ লাগে। নানান রকম ডাল দিয়ে তৈরি ডাল মাখানি যত সময় যায়, তত মাখোমাখো হয়। মশলা এবং মাখনের স্বাদ ডালের দানার ভেতরে ঢুকতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় নেয়। তাই পরের দিন এটি খেলে এটা আরও নরম ও সুস্বাদু লাগে।
৫. লাবড়া (পাঁচমিশেলি সবজি)
রান্নার পর সময় যত যায়, সবজিগুলো থেকে জলীয় অংশ বের হয়ে মসলার সাথে মিলেমিশে যায়। বিশেষ করে লাবড়ার মিষ্টি ভাবটা বাসি হলে পুরো রান্নায় সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যা টাটকা রান্নায় অনেক সময় পাওয়া যায় না।
সতর্কতা:
বাসি খাবার স্বাদে বাড়লেও তা খাওয়ার আগে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি। রান্না করার দুই ঘণ্টার মধ্যে খাবার ঠান্ডা করে এয়ার-টাইট কন্টেনারে ভরে ফ্রিজে রাখুন। আর পরের দিন খাওয়ার সময় পুরো খাবার বারবার গরম না করে, যতটুকু খাবেন ঠিক ততটুকুই বের করে ভালো করে ফুটিয়ে বা গরম করে নিন।
