

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ক্যাপসুল সংকটের কারণে বাংলাদেশে গত ১৪ মাস ধরে শিশুদের জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন বন্ধ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বছরে দুবার এই কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও,
সর্বশেষ ক্যাম্পেইন হয়েছিল ২০২৫ সালের মার্চ মাসে। এরপর সেপ্টেম্বর এবং চলতি বছরের মার্চের দুটি ক্যাম্পেইন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
তবে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী এটি পুরোপুরি বন্ধ মানতে নারাজ। তিনি জানান, ১৫ই জুনের মধ্যে ইউনিসেফের কাছ থেকে বিমানযোগে ক্যাপসুল দেশে পৌঁছাবে।
এই প্রাপ্তি সাপেক্ষে আগামী ২৭শে জুনের মধ্যে ক্যাম্পেইন শুরুর সম্ভাব্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এবার দুই কোটি ৬০ লাখ শিশুকে ক্যাপসুল খাওনোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংকটের কারণ
বাংলাদেশ এবারই প্রথম টেন্ডার বা দরপত্রের মাধ্যমে না কিনে, সরাসরি আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের কাছ থেকে এই ক্যাপসুল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ হলো-
এক রাউন্ডের ক্যাপসুল কিনলে, পরবর্তী রাউন্ডের ক্যাপসুল ইউনিসেফ বিনামূল্যে (ফ্রি অব কস্ট) দেবে। আগে অপারেশনাল প্ল্যানের অধীনে টেন্ডার হতো, যা ২০২৪ সালের জুনে শেষ হয়।
পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের দ্বিমতের কারণে পূর্বের টেন্ডার বাতিল করে cপ্রীতি অর্থায়ন পদ্ধতিতে যাওয়ার কারণেই এই সাময়িক বিলম্ব ও সংকট তৈরি হয়েছে।
ক্যাম্পেইনের আওতায় সাধারণত ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়:
নীল রঙের ক্যাপসুল: ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের জন্য।
লাল রঙের ক্যাপসুল: ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস (১ থেকে ৫ বছর) বয়সী শিশুদের জন্য।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও গুরুত্ব
ভিটামিন-এ হলো একটি অতি প্রয়োজনীয় অনুপুষ্টিকণা (Micronutrient)। ২০১৯-২০ সালের জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের প্রতি দুজনের মধ্যে একজন ভিটামিন-এ ঘাটতিতে ভুগছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘদিন এই ক্যাম্পেইন ব্যাহত হলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং দৃষ্টি সক্ষমতা ও পুষ্টির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
জনস্বাস্থ্যবিদ ড. মুশতাক হোসেন জানান, ১৯৭৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির ফলে দেশ থেকে রাতকানা রোগ নির্মূল হয়েছিল। তবে এখন দীর্ঘ বিরতির কারণে শিশুদের রাতকানা, অপুষ্টি এবং হামের মতো সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
