

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, বিহারকর্মী, যাজকসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি সম্মানী ভাতার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে গঠিত সেলের সপ্তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও সেলের সভাপতি মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
সভায় জানানো হয়, ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানী প্রদানের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রথম বছরেই দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন উপকারভোগীকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে এ সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
চলতি অর্থবছরে যেসব প্রতিষ্ঠানের যতজন পাবেন-
৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদের ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৮ জন,
৩ হাজার মন্দিরের ৬ হাজার জন,
৭৫২টি বৌদ্ধ বিহারের ১ হাজার ৫০৪ জন এবং
৩০১টি গির্জার ৬০২ জন সম্মানী ভাতা পাবেন।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কে কত টাকা পাবেন-
ইমাম, পুরোহিত, বিহার অধ্যক্ষ ও যাজক মাসে ৫ হাজার টাকা করে পাবেন। এছাড়া মুয়াজ্জিন, সেবাইত, বিহার উপাধ্যক্ষ ও সহকারী যাজক মাসে ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। অন্যদিকে মসজিদের খাদেমরা মাসে ২ হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। এছাড়াও প্রত্যেক উপকারভোগী বছরে ২ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা পাবেন।
যেভাবে দেওয়া হবে ভাতা
উপকারভোগীদের সুবিধা বিবেচনায় মোবাইল ব্যাংকিং অথবা সরাসরি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সম্মানীর অর্থ পরিশোধ করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।
সভায় মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ জানান, এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের ৬ হাজার ১৭টি নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত মোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে সম্মানী দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই কর্মসূচির পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে আড়াই লাখেরও বেশি উপকারভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক এবং অর্থ বিভাগ ও স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।