বৃহস্পতিবার
০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বড় ভাইয়ের লিভারে বেঁচে ফিরে ছোট ভাইকে বিয়ে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

একটি অঙ্গদান শুধু একটি জীবনই বাঁচায় না, দুটি অচেনা পরিবারকে কীভাবে একসূত্রে বেঁধে রাখতে পারে- যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিন ডটসন এবং নোয়া ওয়াটার্সের গল্প তারই এক অনুপম নিদর্শন। জন্মের পরপরই পাওয়া একটি দ্বিতীয় সুযোগ দুই দশক পর রূপ নিয়েছে এক চিরস্থায়ী প্রেমের কাব্যে।

নিশ্চিত মৃত্যু থেকে নতুন জীবনের সূচনা

কেনটাকির ব্রুকলিন ডটসন জন্মের পরপরই লিভারের এক বিরল ও মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকেরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, দ্রুত যকৃৎ প্রতিস্থাপন করতে না পারলে তিন দিনের বেশি বাঁচার আশা নেই। ঠিক সেই সংকটকালে অলৌকিক আশীর্বাদ হয়ে আসে ১০ বছর বয়সী মাইকেল ওয়াটার্সের অঙ্গদান।

ওহাইওর ডেটনের বাসিন্দা মাইকেল ছোটবেলাতেই তার পরিবারকে জানিয়ে রেখেছিল, মারা গেলে সে নিজের অঙ্গ দান করতে চায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মাইকেলের মৃত্যু হলে, শোকাহত মা-বাবা ছেলের ইচ্ছা পূরণ করেন।

মাইকেলের দান করা লিভার প্রতিস্থাপন করা হয় ব্রুকলিনের শরীরে, যা তাকে এনে দেয় জীবনের নতুন গ্যারান্টি। মাইকেলের অন্যান্য অঙ্গ আরও কয়েকজন মুমূর্ষু মানুষের জীবন বাঁচায়।

অঙ্গদান থেকে গভীর অনুভূতি

অস্ত্রোপচারের পর ব্রুকলিন সুস্থ হয়ে উঠতে থাকেন। সময়ের সাথে সাথে ডটসন ও ওয়াটার্স- দুই পরিবারের মধ্যে গড়ে ওঠে সুদৃঢ় মানবিক যোগাযোগ। এই সূত্র ধরেই মাইকেলের ছোট ভাই নোয়া ওয়াটার্সের সঙ্গে পরিচয় হয় ব্রুকলিনের।

বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা: প্রথম দিকে কেবল কুশল বিনিময় ও সাধারণ বন্ধুত্ব থাকলেও ধীরে ধীরে তা গভীর প্রেমে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় (প্রায় আট ঘণ্টা পর্যন্ত) ভিডিও কলে কথা বলতেন তারা।

সময়ের পরিক্রমায় দুজনই উপলব্ধি করেন যে তাদের আবেগ আর কেবল বন্ধুত্বের জায়গায় নেই।

বাগদান ও বিয়ে

মাইকেলের রেখে যাওয়া জীবনের স্মারকে নতুন অধ্যায় যোগ করে সম্প্রতি ব্রুকলিন ও নোয়া আনুষ্ঠানিকভাবে বাগদান সম্পন্ন করেছেন।

আগামী সেপ্টেম্বরে কেনটাকির মন্টিসেলোর মনোরম ‘লেক কাম্বারল্যান্ড’-এর তীরে তাদের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মাইকেল সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নোয়া জানান, তার বড় ভাই ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু ও দায়িত্বশীল। ছোট ভাইকে সাইকেল শেখানো থেকে শুরু করে সবসময় পাশে থাকার স্মৃতিগুলো আজও নোয়ার কাছে উজ্জ্বল।

ব্রুকলিনও গভীর কৃতজ্ঞতায় স্বীকার করেন, মাইকেলের শেষ ইচ্ছা ও তার পরিবারের মহান সিদ্ধান্তের কারণেই আজ তিনি একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

একসময় যে পরিবারের শিশুটির অঙ্গ ব্রুকলিনকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছিল, দুই দশকেরও বেশি সময় পর ব্রুকলিন আনুষ্ঠানিকভাবে সেই পরিবারেরই পুত্রবধূ হতে চলেছেন।

এই ঘটনাটি কেবল একটি মধুর ভালোবাসার গল্প নয়, বরং অঙ্গদানের মাধ্যমে যে মানবজীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন তৈরি হতে পারে- তার এক অনন্য ও মানবিক উদাহরণ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন