

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আয়নাঘরে নিজের ৬১ দিনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘পৃথিবীর জঘন্যতম ও ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড এবং জঘন্যতম স্বৈরাচার আমরা দেখেছি। আয়নাঘরে যেখানে আমার ৬১ দিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে, সেখানে একটা জানোয়ারও ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারবে না। অথচ আমরা সেখানে থেকেছি।’
বুধবার (০৫ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমার ভাই মীর কাসেমের ছেলে ব্যারিস্টার আরমান এখনো ট্রমায় ভোগেন। আমি তার বাবার বন্ধু ছিলাম, একসঙ্গে কারাগারেও ছিলাম। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কেন দেশে ফিরেছিলেন? তিনি বলেছিলেন, আমি যদি না ফিরি, আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত তার ফাঁসি হলো, কিন্তু ছেলেকেও রক্ষা করতে পারেননি। আমি সেই ঘটনার জীবন্ত সাক্ষী।’
তিনি বলেন, ‘এমন একটি স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্ত হওয়ার পর যদি আমরা বলতে শুরু করি—জুলাই কার, জুলাই কার—তাহলে জুলাই আমাদের কারও থাকবে না। জুলাই কোনো দল বা গোষ্ঠীর নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের অর্জন।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস দলীয়করণ না করার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীতে অনেক জাতি শত বছর সংগ্রাম করেও স্বাধীনতা পায় না। কিন্তু ইতিহাসে এমন কিছু দিন আসে, যা কয়েক দশকের পরিবর্তন এনে দেয়। বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানও তেমন একটি অধ্যায়। এই অর্জনকে দলীয়করণ করা যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে রাজনীতি করছেন, তাদের মনে রাখতে হবে—চেতনাকে রাজনৈতিক পণ্য বানানো উচিত নয়। একাত্তরের চেতনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে করতে শেখ হাসিনা এমন অবস্থার সৃষ্টি করেছিলেন যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিও মানুষের মধ্যে বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছিল। জুলাইয়ের ক্ষেত্রেও যেন এমনটি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের। কেউ নেতৃত্ব দিয়েছেন, কেউ সংগঠিত করেছেন, কিন্তু যারা জীবন দিয়েছেন, তারাই প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা এবং প্রকৃত নেতা।’