

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জীবজগতের সম্পর্ক, বিশেষ করে এক সঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকা বা 'সামাজিক মোনোগ্যামি' একটি দারুণ কৌতুহলোদ্দীপক বিষয়।
মানুষের মতো পশু-পাখিদের মধ্যেও যে 'বিবাহ বিচ্ছেদ' বা সম্পর্কের টানাপোড়েন ঘটে, তা সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে।
শতবর্ষী কচ্ছপের বিচ্ছেদ
সম্পর্ক ভাঙার সবচেয়ে নাটকীয় উদাহরণ তৈরি করেছিল অস্ট্রিয়ার একটি চিড়িয়াখানার দুই গালাপাগোস কচ্ছপ- বিবি এবং পোলডি। প্রায় ১১৫ বছর একসঙ্গে সংসার করার পর ২০১১ সালে বিবি হঠাৎ করেই তার সঙ্গী পোলডিকে আক্রমণ করা শুরু করে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ অনেক চেষ্টা করেও তাদের আর এক করতে পারেনি। ফলে শতাব্দীর পুরোনো এই সম্পর্কের ইতি ঘটে।
প্রাণীজগতে স্তন্যপায়ীদের মধ্যে মাত্র ১০% প্রজাতির মাঝে এক সঙ্গীর সাথে থাকার প্রবণতা দেখা যায়। এর কারণ হলো, সন্তান গর্ভে ধারণ করা এবং দুধ খাওয়ানোর মূল দায়িত্ব থাকে মায়ের ওপর, ফলে বাবার ভূমিকা সেখানে বেশ সীমিত।
অন্যদিকে পাখিদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি, কারণ পুরুষ পাখিরাও খাবার খোঁজা এবং ছানা লালন-পালনে সমানভাবে অংশ নেয়।
পাখিদের 'গোপন' সম্পর্ক
একসঙ্গে বাসা বাঁধলেই যে পাখিরা পুরোপুরি বিশ্বস্ত থাকে, তা কিন্তু নয়। ডিএনএ (DNA) পরীক্ষায় দেখা গেছে, অনেক পাখির ছানার আসল বাবা আসলে তাদের বাসার পুরুষ পাখিটি নয়, বরং অন্য কোনো পুরুষ পাখি। যেমন, অস্ট্রেলিয়ার ম্যাগপাই পাখিদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনার হার প্রায় ৮২%!
পরিবেশ ও জলবায়ুর প্রভাব
জলবায়ু পরিবর্তনও পশু-পাখিদের ঘর ভাঙার পেছনে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যান্টার্কটিকার 'স্নো পেট্রেল' পাখিরা অতিরিক্ত তুষারপাতের কারণে তাদের বাসা ও ডিম হারালে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া এবং বিচ্ছেদে জড়ায়।
একইভাবে, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের 'ব্ল্যাক-ব্রাউড আলবাট্রস' পাখিদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বাড়লে তাদের বিচ্ছেদের হার বেড়ে যায়। গবেষকরা এর নাম দিয়েছেন ‘পরিবেশগত বিবাহ বিচ্ছেদ’।
আয়ু ও প্রজনন কৌশল
যেসব পাখির আয়ু বেশি (যেমন- ওয়ান্ডারিং আলবাট্রস), তারা দীর্ঘদিনের অভ্যাসের কারণে একসাথে বাচ্চা লালন-পালনে দক্ষ হয়ে ওঠে এবং সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে। অন্যদিকে, যেসব প্রাণীর আয়ু কম, তারা দ্রুত সঙ্গী বদলে ফেলে যাতে ভিন্ন ভিন্ন সঙ্গীর মাধ্যমে তাদের বংশবৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়ানো যায়।
জলবায়ু সংকট এবং পরিবেশের দ্রুত পরিবর্তন আগামী দিনে বন্যপ্রাণীদের এই সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কের গতিপথ আরও বদলে দেবে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।