

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লিপস্টিক বর্তমানে নারীদের সৌন্দর্যচর্চা ও আত্মবিশ্বাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কর্মজীবী নারী থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষই প্রায় প্রতিদিন এটি ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে, নিত্যদিনের এই পছন্দের প্রসাধনীটির পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি।
বিশেষ করে বাজারে থাকা নিম্নমানের কিংবা নকল লিপস্টিকে ক্যাডমিয়াম, সীসা ও পারদের মতো অত্যন্ত ক্ষতিকর ও বিষাক্ত ধাতু ব্যবহৃত হয়। যেহেতু লিপস্টিক ঠোঁটে লাগানো হয়, তাই কথা বলা বা খাবার খাওয়ার সময় এর সামান্য অংশ অজান্তেই আমাদের পেটে চলে যায়।
আপাতদৃষ্টিতে এই পরিমাণ খুব কম মনে হলেও, প্রতিদিন ব্যবহারের ফলে এই ক্ষতিকর উপাদানগুলো ধীরে ধীরে শরীরে জমতে থাকে।
ক্যাডমিয়ামের বিষাক্ত প্রভাব
ক্যাডমিয়াম মূলত একটি ভারী ধাতু, যা শিল্পক্ষেত্রে রঙ বা ব্যাটারি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই বিষাক্ত উপাদানটি দীর্ঘদিন ধরে শরীরে জমা হতে থাকলে তা মানবদেহের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনে।
ক্যাডমিয়াম কোষের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিভাজনকে বাধাগ্রস্ত করে, যা পাকস্থলীতে টিউমার ও পরবর্তীতে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
এছাড়া এটি কিডনিতে প্রবেশ করে এর স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম বড় কারণ।
শুধু তাই নয়, এই ধাতু হাড়ের ঘনত্ব কমিয়ে হাড়কে দুর্বল ও ভঙ্গুর করে তোলে এবং প্রজনন ক্ষমতার ওপরও তীব্র নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সুরক্ষিত ও সচেতন থাকার উপায়
স্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে না ফেলে সৌন্দর্যচর্চা বজায় রাখতে হলে লিপস্টিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে সতর্ক হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। লিপস্টিক কেনার সময় অবশ্যই নামহীন প্রসাধনী এড়িয়ে মাননিয়ন্ত্রণকারী বিশ্বস্ত ও স্বনামধন্য ব্র্যান্ড বেছে নেওয়া উচিত।
এছাড়া প্যাকেটের উপাদান তালিকা দেখে ক্ষতিকর ধাতুর উপস্থিতি পরীক্ষা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। রাসায়নিকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে বর্তমানে বাজারে পাওয়া প্রাকৃতিক বা অর্গানিক লিপস্টিক ব্যবহার করা যেতে পারে।
সর্বোপরি, প্রতিদিন লিপস্টিক ব্যবহারের অভ্যাস কিছুটা কমিয়ে এনে মাঝে মাঝে ব্যবহারের মানসিকতা গড়ে তোলা উচিত, যাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক শরীরে জমতে না পারে।