

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আমাদের সমাজে অনেক পুরুষের মধ্যেই বুদ্ধিমতী ও স্বাধীনচেতা মেয়েদের এড়িয়ে চলার একটি প্রবণতা দেখা যায়। এর পেছনে মূলত পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা, অহংকার এবং কিছু মনস্তাত্ত্বিক কারণ কাজ করে।
পুরুষেরা যে ৫টি মূল কারণে বুদ্ধিমতী মেয়েদের পছন্দ করতে দ্বিধাবোধ করেন-
১. আধিপত্য বিস্তার করতে না পারা
অধিকাংশ পুরুষই সম্পর্কে বা সংসারে নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চান। কিন্তু একজন বুদ্ধিমতী মেয়ের নিজস্ব মতামত ও যৌক্তিক চিন্তাভাবনা থাকে। তারা অন্ধের মতো সব সিদ্ধান্ত মেনে নেন না।
ফলে, যে পুরুষেরা সম্পর্কে একক আধিপত্য বা ক্ষমতা খাটাতে অভ্যস্ত, তারা বুদ্ধিমতী মেয়েদের সামনে নিজেদের কর্তৃত্ব হারিয়ে ফেলার ভয়ে তাদের এড়িয়ে চলেন।
২. নিজেকে 'গুরুত্বহীন' মনে হওয়া
স্বল্প বুদ্ধির মেয়েরা সাধারণত ছোটখাটো সব বিষয়েই স্বামী বা প্রেমিকের ওপর নির্ভরশীল থাকেন। এতে পুরুষেরা নিজেদের খুব গুরুত্বপূর্ণ ও "ত্রাতা" ভাবার সুযোগ পান।
কিন্তু বুদ্ধিমতী মেয়েরা আত্মনির্ভরশীল ও বিচক্ষণ হওয়ায় সব ব্যাপারে পুরুষের ওপর নির্ভর করেন না। আর এই বিষয়টি অনেক পুরুষের অহংবোধে (Ego) আঘাত করে, যার কারণে তারা নিজেকে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে শুরু করেন।
৩. সহজে প্রতারণা বা পরকীয়া করতে না পারা
অনেক পুরুষই ঘরে কম বুদ্ধিমান সঙ্গী রেখে বাইরে অনৈতিক সম্পর্কে জড়াতে চান, কারণ তাদের ধারণা কম বুদ্ধির স্ত্রীকে সহজে ফাঁকি দেওয়া যায়।
কিন্তু একজন বুদ্ধিমতী নারীর সামনে কোনো কিছু লুকিয়ে রাখা বা তাকে ধোঁকা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন।
তাদের প্রখর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার কারণে পুরুষেরা সহজে কোনো অন্যায় করে পার পেয়ে যান না। এই 'ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়' থেকেও অনেকে বুদ্ধিমতী মেয়েদের পছন্দ করেন না।
৪. 'শো-পিস' হিসেবে ব্যবহার করতে না পারা
সামাজিক মর্যাদা বা লোকদেখানো আভিজাত্যের জন্য অনেক পুরুষ স্ত্রীকে কেবল একটি সুন্দর 'শো-পিস' বা প্রদর্শনের বস্তু হিসেবে রাখতে পছন্দ করেন। তারা চান স্ত্রী দেখতে আকর্ষণীয় হবে, কিন্তু তার নিজস্ব কোনো কণ্ঠস্বর থাকবে না।
একজন বুদ্ধিমতী নারী কখনোই নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে কারও পুতুল বা শো-পিস হয়ে থাকতে রাজি হন না। এই ব্যক্তিত্বের কারণেই অনেকে তাদের থেকে দূরে থাকেন।
৫. কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য বা শারীরিক মোহের অভাব
যেসব পুরুষের কাছে সম্পর্কের গভীরতা বা মানসিক সংযোগের চেয়ে কেবল বাহ্যিক রূপ এবং শারীরিক আকর্ষণই প্রধান, তারা সঙ্গীর বুদ্ধিমত্তা নিয়ে মাথা ঘামান না।
বুদ্ধিমতী মেয়েরা শুধু রূপ নয়, বুদ্ধি ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে সম্পর্ক পরিচালনা করতে চান। কিন্তু গভীরতাহীন ও কেবল রূপের মোহে অন্ধ পুরুষেরা এই মানসিক পরিপক্বতা নিতে পারেন না বলেই বুদ্ধিমতী মেয়েদের পছন্দ করেন না।
ছেলেরা বুদ্ধিমতী মেয়েদের পছন্দ করে না- বিষয়টি এমন নয় যে তারা বুদ্ধির কদর বোঝেন না, বরং আসল কারণ হলো বুদ্ধিমতী মেয়েদের সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, তাদের বোকা বানানো যায় না এবং তাদের সামনে পুরুষতান্ত্রিক অহংকার টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
