

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অনেকে কারও কাছ থেকে সামান্য আন্তরিকতা বা যত্ন পেলেই মনে করেন, মানুষটি তাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে কল্পনা করতে শুরু করেন। একটি সম্পর্ক শেষ হওয়ার অল্প কিছুদিন পরই আবার নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।
শুরুতে সবকিছু দারুণ মনে হলেও সময়ের সঙ্গে বুঝতে পারেন, তিনি আসলে মানুষটিকে যথেষ্ট চিনেই উঠতে পারেননি। ফলে সম্পর্কও বেশিদিন টেকে না।
এমন অভিজ্ঞতা অনেকের জীবনেই দেখা যায়। আবেগের বশে দ্রুত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লেও বাস্তবতা সামনে এলে সম্পর্ক ভেঙে যায় এবং থেকে যায় হতাশা।
কেন এমন হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইমোফিলিয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। অনেকের শৈশবে পর্যাপ্ত ভালোবাসা, মানসিক নিরাপত্তা বা স্বীকৃতির অভাব থাকে। ফলে পরবর্তী জীবনে কেউ একটু আন্তরিক আচরণ করলেই তারা সহজেই আবেগে জড়িয়ে পড়েন।
আবার অনেকের ক্ষেত্রে একাকীত্ব বড় ভূমিকা রাখে। নতুন সম্পর্ক তাদের কাছে শুধু ভালোবাসা নয়, বরং মানসিক শূন্যতা পূরণের একটি উপায় হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এই প্রবণতাকে বাড়িয়ে দিতে পারে।
সাজানো ছবি, আকর্ষণীয় কথাবার্তা কিংবা নিখুঁত অনলাইন উপস্থিতি দেখে অনেকেই বাস্তব মানুষটির পরিবর্তে নিজের কল্পনায় তৈরি একটি চরিত্রের প্রেমে পড়ে যান।
কোন লক্ষণগুলো ইমোফিলিয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে?
দ্রুত প্রেমে পড়লেই যে সবার ইমোফিলিয়া রয়েছে, তা নয়। তবে নিচের বৈশিষ্ট্যগুলো বারবার দেখা গেলে বিষয়টি নিয়ে ভাবার প্রয়োজন হতে পারে-
খুব অল্প পরিচয়েই গভীর প্রেমের অনুভূতি তৈরি হওয়া, সম্পর্ক শুরু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করা।
একের পর এক নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, সঙ্গীর নেতিবাচক দিকগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা সম্পর্কের শুরুতেই অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ বা নির্ভরশীল হয়ে পড়া এবং একটি সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর খুব দ্রুত অন্য সম্পর্কে চলে যাওয়া।
ভালোবাসা আর আকর্ষণ-দুটো কি একই?
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, আকর্ষণ এবং ভালোবাসা এক বিষয় নয়। কাউকে প্রথম দেখায় ভালো লাগতেই পারে। কিন্তু প্রকৃত ভালোবাসা সাধারণত সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে তৈরি হয়।
একজন মানুষের গুণ, সীমাবদ্ধতা, অভ্যাস, মূল্যবোধ ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানার পরও তাকে গ্রহণ করার মধ্যেই ভালোবাসার পরিপক্বতা তৈরি হয়।
অন্যদিকে ইমোফিলিয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় বাস্তব মানুষটির চেয়ে নিজের কল্পনায় গড়ে ওঠা একটি ছবির প্রতি আকর্ষণ বেশি কাজ করে।
কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে?
খুব দ্রুত আবেগে জড়িয়ে পড়ার কারণে অনেক সময় ভুল মানুষকে বিশ্বাস করার আশঙ্কা থাকে। প্রতারক বা কৌশলী ব্যক্তিরা প্রায়ই জানেন কীভাবে অল্প সময়ে কারও বিশ্বাস অর্জন করতে হয়।
ফলে সহজেই প্রেমে পড়ার প্রবণতা যাদের রয়েছে, তারা মানসিক, আর্থিক কিংবা সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এ ছাড়া বারবার সম্পর্ক ভেঙে গেলে আত্মবিশ্বাসেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তখন অনেকেই নিজের মধ্যেই সমস্যার কারণ খুঁজতে শুরু করেন।
নিজেকে কীভাবে সামলাবেন?
যদি মনে হয় আপনি খুব দ্রুত আবেগে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে নিজেকে দোষ দেওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং সচেতন হওয়াই সবচেয়ে জরুরি।
নতুন সম্পর্কে তাড়াহুড়ো না করে সময় নিন। মানুষটিকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পর্যবেক্ষণ করুন। তিনি যা বলেন, তার সঙ্গে কাজের মিল রয়েছে কি না, সেটিও খেয়াল করুন।
সম্পর্কের শুরুতেই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে কিছুটা সময় দিন। পরিবারের সদস্য বা বিশ্বস্ত বন্ধুদের মতামতকেও গুরুত্ব দিন। অনেক সময় আবেগের বাইরে থেকে তারা এমন বিষয় দেখতে পারেন, যা আপনার চোখ এড়িয়ে যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিজের সুখ বা আত্মপরিচয় যেন পুরোপুরি অন্য একজন মানুষের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে পড়ে।
নিজের কাজ, পরিবার, বন্ধু, শখ ও ব্যক্তিগত লক্ষ্যকে সমান গুরুত্ব দেওয়াও একটি সুস্থ সম্পর্কের অংশ। ভালোবাসা হোক সচেতনতার সঙ্গে
খুব সহজে প্রেমে পড়া কোনো দুর্বলতা বা অপরাধ নয়। বরং এটি একজন মানুষের আবেগপ্রবণ ও ভালোবাসতে জানার ক্ষমতারই পরিচয় বহন করে।
তবে সেই আবেগ যদি বারবার কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সেটিকে বোঝা এবং নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। একটি সুস্থ সম্পর্ক কেবল অনুভূতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না, এর ভিত্তি হয় পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস, ধৈর্য এবং বাস্তব উপলব্ধির ওপর।
তাই প্রেমে পড়ুন, কিন্তু নিজের সত্তাকে হারিয়ে নয়। কারণ দীর্ঘস্থায়ী ও সুন্দর সম্পর্ক সাধারণত হঠাৎ করে তৈরি হয় না; সময়ের সঙ্গে একে অপরকে জানার মধ্য দিয়েই তার শক্ত ভিত্তি গড়ে ওঠে।
