

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাস আর ‘রক অ্যান্ড পপ গুরু’ আজম খান- এ দুটি নাম যেন একে অপরের পরিপূরক। তিনি শুধু একজন কালজয়ী কণ্ঠশিল্পীই ছিলেন না, বরং ছিলেন স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠস্বর এবং একটি প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অগ্রদূত। আজ ৫ জুন, ক্যানসারের সাথে দীর্ঘ লড়াই শেষে ২০১১ সালের এই দিনে বিদায় নেওয়া এই কিংবদন্তির ১৫তম প্রয়াণ দিবস।
১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আজিমপুরে জন্ম নেওয়া আজম খানের রক্তে ছিল দ্রোহ ও দেশপ্রেম। ১৯৭১ সালে দেশমাতৃকার টানে তিনি ২ নম্বর সেক্টরের একজন সম্মুখসমরের বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রণাঙ্গনের সেই অস্ত্র জমা দিয়ে তিনি হাতে তুলে নেন গিটার। শুরু হয় এক নতুন সুরের সংগ্রাম।
সত্তরের দশকের শুরুতে ‘ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী’ দিয়ে যাত্রা শুরু করে পরবর্তীতে তিনি গড়ে তোলেন ঐতিহাসিক ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’। সে সময় ব্যান্ড সংগীতকে সমাজ সহজভাবে না নিলেও আজম খান তাঁর ভিন্নধর্মী গায়কী ও সাধারণ মানুষের মুখের ভাষায় গান বেঁধে তরুণ সমাজকে মাতাল করে তোলেন। তাঁর ‘বাংলাদেশ’, ‘আলাল ও দুলাল’, ‘সালেকা মালেকা’, ‘ওরে সালেকা ওরে মালেকা’, 'পাপড়ি' বা ‘হাই আল্লাহ’র মতো গানগুলো আজ বাংলা সংগীতের অবিনশ্বর ক্লাসিক। তাঁর হাত ধরেই দেশে ব্যান্ড সংগীতের স্বর্ণযুগ শুরু হয়।
এই অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মরণোত্তর দেশের সর্বোচ্চ দুই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা- ২০১৯ সালে ‘একুশে পদক’ এবং ২০২৫ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’-এ ভূষিত করে। যদিও প্রচারবিমুখ এই মহান শিল্পী আজীবন পুরস্কারের চেয়ে শ্রোতাদের ভালোবাসাকেই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মনে করতেন।
দেহান্তরের দেড় দশক পেরিয়েও আজম খান এ দেশের কোটি ভক্তের হৃদয়ে অম্লান। বাংলা ব্যান্ড সংগীত যতদিন বাঁচবে, গিটার হাতে মঞ্চ কাঁপানো এই চিরতরুণ মুক্তিযোদ্ধার নাম ততদিন শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হবে।
