

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে জেন-জিদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তিনি পদত্যাগ পত্র জমা দেন।
এদিকে ধমেন্দ্রর পদত্যাগে নতুন করে সামনে এসেছে প্রায় ৩০ বছর আগের একটি ছবি। যেখানে দেখা যায়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন বর্তমান ভারতের শিক্ষামন্ত্রীই।
সময়টা ১৯৯৭ সাল। উড়িষ্যার তখন ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস সরকার, মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন জানকী বল্লভ পট্টনায়েক। সে সময় ভুবনেশ্বরে রাজ্য সচিবালয়ের সামনে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে জড়ো হয়েছিলেন প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী। তাদের দাবির মধ্যে ছিল ঘটনার তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
সেই আন্দোলনকারীদের একজন ছিলেন তরুণ ধর্মেন্দ্র প্রধান। তখন তিনি কোনো সরকারি দায়িত্বে ছিলেন না; ছিলেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) জাতীয় সম্পাদক। ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেন।
আন্দোলনের একপর্যায়ে সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করলে আহত হন ধর্মেন্দ্র প্রধানও। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই ঘটনায় তার হাড় ভেঙে গিয়েছিল।
প্রায় ৩০ বছর পর সেই সময়ের ছবিগুলো আবার ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এর কারণ, বর্তমানে দেশটির মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
২০২৬ সালের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া। এর পাশাপাশি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়েছে।
বিশেষ করে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে সামনে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে অতীতের সেই ছবি নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ১৯৯৭ সালের আন্দোলনের তুলনা টেনে বলছেন, যে ব্যক্তি একসময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছিলেন, আজ তাকেই একই ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে পদত্যাগ করতে হয়েছে।