

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আজ ২৫ জুন, বলিউড অভিনেত্রী কারিশমা কাপুরের ৫২তম জন্মদিন। ১৯৭৪ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া কারিশমা একসময় বলিউডে একের পর এক সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন।
তবে তাঁর পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের একটি অধ্যায় আজও বি-টাউনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি- আর তা হলো অভিনেতা অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে তাঁর ভেঙে যাওয়া বাগদান।
যেভাবে বচ্চন পরিবারের ‘হবু পুত্রবধূ’
সম্পর্কের সূত্রপাত দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠতা থেকে। অভিষেকের বোন শ্বেতা বচ্চনের বিয়ে হয়েছিল নন্দা পরিবারে, যা আবার কারিশমার মামাবাড়ির দিক থেকে আত্মীয়। এই সুবাদে দুই পরিবার আরও কাছাকাছি আসে।
দীর্ঘ পাঁচ বছর সম্পর্কে থাকার পর তাঁদের বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়। এমনকি বচ্চন পরিবারের এক অনুষ্ঠানে জয়া বচ্চন কারিশমাকে নিজের ‘হবু পুত্রবধূ’ হিসেবে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।
এরপর ধুমধাম করে তাঁদের বাগদানও সম্পন্ন হয়। সেই সময় কারিশমা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বচ্চন পরিবারের অংশ হতে পেরে তাঁর দারুণ লাগছে।
হঠাৎ বিচ্ছেদ !
সবকিছু ঠিকঠাক চললেও শেষ পর্যন্ত বিয়ের পিঁড়িতে বসা হয়নি এই জুটির। হঠাৎ করেই ভেঙে যায় তাঁদের বাগদান। দুই পরিবারের কেউই এই বিচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে কখনো প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই বলেননি।
তবে বলিপাড়ায় জোর গুঞ্জন রয়েছে যে, এই বিচ্ছেদের পেছনে মূল ভূমিকা ছিল কারিশমার মা ববিতার। অভিষেক তখন মাত্র ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন, তাই ববিতা তাঁর মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন।
শোনা যায়, ববিতা চেয়েছিলেন বিয়ের আগেই অমিতাভ বচ্চনের সম্পত্তির একটি অংশ যেন অভিষেকের নামে লিখে দেওয়া হয়। কিন্তু বচ্চন পরিবার এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সম্পর্কটি ভেঙে যায়। অবশ্য এই পুরো বিষয়টি গুঞ্জন হিসেবেই রয়ে গেছে।
কারিশমার সেই কঠিন সময়
বাগদান ভেঙে যাওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন কারিশমা। ২০০৩ সালের এক সাক্ষাৎকারে সেই কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেছিলেন:
‘বছরের শুরুটা আমার জন্য খুবই কষ্টকর ছিল। আমি চাই না পৃথিবীর কোনো মেয়েকে এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হোক। নিজের কষ্ট ও যন্ত্রণা আমাকে একাই সামলাতে হয়েছে।’
বিচ্ছেদের পর নিজেকে মিডিয়া এবং লাইমলাইট থেকে সম্পূর্ণ আড়ালে নিয়ে যান কারিশমা। এ বিষয়ে তিনি জানান, এটি তাঁর সচেতন সিদ্ধান্ত ছিল।
নিজের দুঃখ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার মতো মানসিক প্রস্তুতি তখন তাঁর ছিল না, তাই নীরব থাকাই বেছে নিয়েছিলেন তিনি।
পরিবারের সমর্থনে ঘুরে দাঁড়ানো
সেই ভয়াবহ মানসিক আঘাত কাটিয়ে ওঠার পেছনে নিজের পরিবারের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করেন কারিশমা। তিনি জানান, বাবা-মা, বোন কারিনা কাপুর এবং দাদিসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা যদি পাশে না দাঁড়াতেন, তবে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হতো না।
সময়ের সাথে সাথে জীবনের সেই অধ্যায়কে পেছনে ফেলে, নিজেকে সামলে নিয়ে আবারও নিজের জীবন ও ক্যারিয়ারে সগৌরবে এগিয়ে গেছেন কারিশমা কাপুর।
