

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬-২৭-এ ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা দূরীকরণে সুস্পষ্ট রূপরেখার ঘাটতি রয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কনফারেন্স রুমে উন্নয়ন সমন্বয় আয়োজিত “অর্থনৈতিক রূপান্তর ও ব্যাংকিং খাত: বাজেট ২০২৬-২৭” শীর্ষক পোস্ট-বাজেট আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ. কে. এনামুল হক। প্যানেল আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম জাহিদ এবং ব্র্যাক ব্যাংকের ভাইস চেয়ারপারসন ফারুক মাইনুদ্দিন আহমেদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন উন্নয়ন সমন্বয়ের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. এস. এম. জুলফিকার আলী।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর। তিনি ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনার পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচি এবং বাজেট ২০২৬-২৭-এর উদ্যোগগুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।
আলোচনায় ড. শহীদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, বর্তমান স্থবির অর্থনীতিতে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। ২০৩৪ সালের মধ্যে অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে ধারাবাহিকভাবে ৬ থেকে ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে, যা বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের কাছাকাছি হলেও বাজেটে তা ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রত্যাশা বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি, মানি মার্কেট সম্প্রসারণ এবং ব্যাংকিং খাতের মৌলিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ফারুক মাইনুদ্দিন আহমেদ বলেন, বাজেটে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সেগুলো বাস্তবায়নের কৌশল স্পষ্ট নয়। শিল্পায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের দায়ভার বাণিজ্যিক ব্যাংকের ওপর বর্তালেও এটি তাদের স্বাভাবিক কাজ নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় ডরপের উপ-পরিচালক যুবায়ের হাসান বলেন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এখনও মূলধারার ব্যাংকিং সেবার বাইরে রয়েছে। তিনি প্রকল্পভিত্তিক বাজেটের পরিবর্তে দারিদ্র্য বিমোচনকেন্দ্রিক বাজেট প্রণয়নের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি জিয়াউল হাসান মোল্লা বলেন, বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নেওয়ার ফলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হতে পারে। এতে নতুন শিল্প-কারখানা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং অর্থনীতির সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. এ. কে. এনামুল হক বলেন, জনসংখ্যা ও চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াতে সরকারি বিনিয়োগের বিকল্প নেই। উচ্চ ব্যয়ের অর্থনীতিতে সরকারি ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে উল্লেখ করে তিনি দুর্নীতি পরিমাপ ও নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।