

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লিওনেল মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার কথা ভাবা এখনো অনেকের কাছেই কঠিন। ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর যে মেসি জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনিই পরে ফিরেছেন, জিতেছেন কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং ফিফা বিশ্বকাপ। ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে পরাজয়ের পর তার চোখের জলও দেখেছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।
তবে সময়ের নিয়মে একদিন শেষ হবে মেসির আন্তর্জাতিক অধ্যায়। আর সেই সময়ের আগেই শুরু হয়ে গেছে নতুন আর্জেন্টিনা গড়ার হিসাব। প্রশ্ন উঠছে—মেসির পর দলের নেতৃত্ব নেবেন কারা? কারা হবেন আক্রমণের ভরসা? কোন খেলোয়াড়দের ঘিরে সাজানো হবে ভবিষ্যতের একাদশ?
মূলত, সামনের বিশ্বকাপে মেসির বয়স হবে ৪৩ বছর। যুক্তি বলে তিনি থাকবেন না,কিন্তু মেসির ক্ষেত্রে যুক্তি অনেক আগেই কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। বলা হয়েছিল বার্সেলোনা ছাড়লেই শেষ। তিনি আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বানিয়েছেন ২০২২ এ। বলা হয়েছিল মিয়ামিতে গেলেই সব শেষ, কিন্তু বিশ্বকাপে ৮ গোল আর ৪ অ্যাসিস্ট করলেন।
আক্রমণে আলভারেজ-লাউতারোর ওপর ভরসা
মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের মূল দায়িত্ব নিতে পারেন হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ। দুজনই বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। একজনের গতি ও বহুমুখী খেলার ক্ষমতা, অন্যজনের গোল করার দক্ষতা—দুটিই ভবিষ্যৎ দলের বড় সম্পদ হতে পারে।
১০ নম্বর জার্সির উত্তরসূরি কে?
মেসির বিদায়ের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে দলের সৃজনশীল নেতৃত্ব নিয়ে। সেই জায়গায় এগিয়ে থাকতে পারেন নিকো পাজ।
মেসির মতো তিনিও মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ পরিচালনা করতে পছন্দ করেন এবং ডান দিক দিয়ে আক্রমণ তৈরিতে দক্ষ। ক্লাব ফুটবলে তার পারফরম্যান্স ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। ভবিষ্যতের আর্জেন্টিনায় তাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়া হতে পারে।
পাজের বিকল্প হিসেবে আছেন ক্লদিও এচেভেরি। ছোট জায়গায় বল নিয়ন্ত্রণ, ড্রিবলিং এবং আক্রমণ তৈরির ক্ষমতা তাকে আলাদা করে তুলেছে।
এ ছাড়া থিয়াগো আলমাদা, গুলেরমো সিমেওনে, ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো, মাতিয়াস সৌলে ও আলেহান্দ্রো গার্নাচোর মতো তরুণদের ঘিরেও বড় প্রত্যাশা রয়েছে। যুব পর্যায়ে লুকা প্রেস্তিয়ান্নি, হেরোনিমো ক্যারিজো ও আলেহো সারকোর মতো প্রতিভারাও ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় থাকতে পারেন।
মাঝমাঠে নতুন নেতৃত্ব
আর্জেন্টিনার বর্তমান সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি ছিল শক্তিশালী মাঝমাঠ। তবে এখানেও পরিবর্তন আসছে। লিয়ান্দ্রো পারেদেস আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ে নিজের ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ২০৩০ বিশ্বকাপে রদ্রিগো দি পলের বয়সও হবে ৩৬ বছর।
এনজো ফার্নান্দেস ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার হতে পারেন ভবিষ্যতের মাঝমাঠের প্রধান দুই স্তম্ভ। পারেদেসের জায়গার জন্য এক্সেকিয়েল পালাসিওসের পাশাপাশি ম্যাক্সিমো পেরোনের মতো তরুণরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন। এছাড়া ভ্যালেন্তিন বারকোর মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়ও ভবিষ্যৎ দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন।
রক্ষণে আসছে বড় পরিবর্তন
রক্ষণভাগে প্রজন্ম পরিবর্তনের সময়ও এগিয়ে আসছে। নিকোলাস ওতামেন্দি অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন, আর নিকোলাস তাগলিয়াফিকোরও হয়তো শেষ বিশ্বকাপ হয়ে গেছে।
লেফটব্যাকে নতুন বিকল্প তৈরির কাজ শুরু করতে হবে। ফাকুন্দো মেদিনা, জুলিও সোলের ও রোমান ভেগার মতো খেলোয়াড়রা সেই জায়গার দাবিদার হতে পারেন।
রাইটব্যাকে নাহুয়েল মলিনা আরও একটি বিশ্বকাপ খেলতে পারেন। তবে তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন হুয়ান ফয়থ ও তরুণ অগাস্তিন জিয়াই।
সেন্টারব্যাকে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও ক্রিস্টিয়ান রোমেরো জুটি আপাতত দলের শক্তি। তবে ওতামেন্দির জায়গায় লিওনার্দো বালেরদির মতো খেলোয়াড় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন।
গোলপোস্টেও তৈরি হচ্ছে নতুন প্রতিযোগিতা
এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ২০৩০ বিশ্বকাপে ৩৭ বছর বয়সী হবেন। ফিট থাকলে তিনি তখনও দলের এক নম্বর গোলরক্ষক থাকার যোগ্যতা রাখেন।
তবে নতুন প্রজন্মের মধ্যে রিভার প্লেটের তরুণ গোলরক্ষক সান্তিয়াগো বেলত্রানকে নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। উচ্চতা ও দক্ষতার কারণে তাকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। অ্যাটলেটিকোর হুয়ান মুসোও থাকতে পারেন বিকল্প হিসেবে।
মেসির পর আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ শুধু খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করবে না, কোচ লিওনেল স্কালোনির সিদ্ধান্তও বড় ভূমিকা রাখবে।
স্কালোনি যদি দায়িত্বে থাকেন, তাহলে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বর্তমান প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে। তবে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন।