

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চ্যালেঞ্জিং ব্যবসায়িক পরিবেশ সত্ত্বেও চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে (জুলা’২০২৫ - মার্চ ২০২৬) ৬৪২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা মুনাফা করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দেশের সুপারব্র্যান্ড ও টেক-জায়ান্ট ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা কমেছে। মোট রাজস্ব বৃদ্ধি সত্ত্বেও ভ্যাট বৃদ্ধির কারণে কোম্পানিটির মুনাফা কিছুটা কমেছে, কিন্তু পরিচালন নগদ প্রবাহে বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে।
চলতি হিসাব বছরের ৩১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত সময়ে কোম্পানিটির ৩য় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের ৫১তম সভায় পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের ৩য় প্রান্তিক শেষে নগদ প্রবাহে বড় উন্নতি কোম্পানির জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ বা এনওসিএফপিএস দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৩২ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ১ টাকা ৬৭ পয়সা ঋণাত্মক ছিল । গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থআদায়ের হার বৃদ্ধির পাশাপাশি তারল্য সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার ফলে পরিচালন নগদ প্রবাহ শক্তিশালী হয়েছে।
কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, আলোচ্য সময়ে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ নগদ সংগ্রহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। যদিও ভ্যাট হার বৃদ্ধি ও অন্যান্য উৎস থেকে করযোগ্য আয় বাড়ার কারণে সরকারি কোষাগারে আয়কর ও ভ্যাট বাবদ পরিশোধ বেড়েছে, তথাপি কার্যকর ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ব্যবস্থাপনার কারণে তারল্য পরিস্থিতি শক্তিশালী হয়েছে।
কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেফ্রিজারেটর ও এয়ার কন্ডিশনারসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট দ্বিগুণ করায় অর্থাৎ ৭.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ আরোপ করায় কোম্পানির বিক্রয় ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ভ্যাট দ্বিগুণ করা সত্ত্বেও গ্রাহকের ব্যয় সক্ষমতার বিবেচনায় পণ্যের দাম বাড়ানো হয়নি।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, চলতি হিসাব বছরের ৩১ মার্চ সমাপ্ত ৩য় প্রান্তিক শেষে ওয়ালটনের শেয়ার প্রতি নিট আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ২৯ পয়সা। যা আগের বছরের একই সময়ে ছিলো ২০ টাকা ৯০ পয়সা। একই সময়ে কোম্পানির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) পুনর্মূল্যায়ন ব্যতীত বেড়ে ২৬৫ টাকা ৭০ পয়সা এবং পুনর্মূল্যায়নসহ বেড়ে ৩৬৬ টাকা ৮০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানির রিবেট কাঠামো পুনর্গঠন, পরিবেশকদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা চালুসহ বাণিজ্যিক নীতিতে কিছু কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে ওয়ালটন হাই-টেকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। ফলে বিনিময় হার, মূল্যস্ফীতি ও বাজারের চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক শৃঙ্খলা ও কৌশলগত উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী প্রান্তিকেও মুনাফা ও অন্যান্য আর্থিক সূচকে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদী কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন
