শনিবার
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জরুরি খরচ মেটাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-ঋণ দেবে ব্যাংক

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

জরুরি প্রয়োজন মেটাতে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সুবিধায় সুদের পরিবর্তে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে গ্রাহক বিভিন্ন জরুরি বিল ও সেবা-সংক্রান্ত খরচ মেটাতে পারবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণের সর্বনিম্ন সীমা ৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে এবং ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের মেয়াদ ঠিক করেছে।

গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে এই সুবিধা চালুর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, গ্রাহক ই-পেমেন্ট ক্রেডিট ব্যবহার করে বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ফি, টোল ও টিকিট, কর ও অন্যান্য সরকারি ফি পরিশোধ করতে পারবেন। পাশাপাশি আমানতের কিস্তি এবং বিমার প্রিমিয়ামও দেওয়া যাবে। তবে গ্রাহক এই ঋণের টাকা নগদে তুলতে পারবেন না। একইভাবে ওয়ালেটে জমা করা বা অন্য কোনো ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের সুযোগও থাকবে না।

ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে। ৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ফি যথাক্রমে ৩, ১০ ও ২০ টাকা। ১ হাজার ১ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণে এই সীমা ১০, ২৫ ও ৫০ টাকা।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩ হাজার ১ টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ২০, ৫০ ও ৯০ টাকা। আর ৭ হাজার ১ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণে ফি হতে পারবে সর্বোচ্চ ৩৫, ৭০ ও ১৩০ টাকা।

মূলত ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহারকারী গ্রাহকেরাই এই সুবিধা পাবেন। তবে কোন ধরনের গ্রাহককে এই ঋণ দেওয়া হবে, কিংবা ব্যাংকটি সব গ্রাহককে সুবিধাটি দেবে কি না—সেই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজেই নেবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘সাময়িক অর্থসংকটে থাকা গ্রাহক যেন জরুরি বিল ও ফি সময়মতো পরিশোধ করতে পারেন, আমরা সেই সুযোগ তৈরি করতে চাই। একই সঙ্গে আমরা নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন আরও বাড়াতে চাই।’

নির্দেশনায় বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ঋণ নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাহককে মূল টাকা ও প্রযোজ্য ফি পরিশোধ করতে হবে। গ্রাহক নির্ধারিত সময়ের আগেই ঋণ পরিশোধ করলে ব্যাংক অতিরিক্ত সুদ, প্রি-পেমেন্ট চার্জ বা আর্লি সেটেলমেন্ট ফি নিতে পারবে না। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য সীমিত হারে জরিমানা বা ফি আদায় করা যাবে।

বাণিজ্যিকভাবে সেবা চালুর আগে প্রতিটি ব্যাংককে অন্তত ছয় মাস পরীক্ষামূলকভাবে বা পাইলট প্রকল্প হিসেবে সুবিধাটি পরিচালনা করতে হবে। পাইলট প্রকল্পের ফলাফল বিশ্লেষণ করে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন পাওয়ার পর ব্যাংক বাণিজ্যিকভাবে এই ঋণ চালু করতে পারবে।

সিটি ব্যাংক পিএলসির ডিএমডি অরুপ হায়দার বলেন, ‘শুরুতে উদ্যোগটি ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু জরুরি সময়ে গ্রাহককে দ্রুত স্বল্পমেয়াদি অর্থের ব্যবস্থা করে দিতে পারবে এটি। এতে দৈনন্দিন আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি এই ঋণব্যবস্থা মানুষকে ক্যাশলেস লেনদেনে আরও আগ্রহী করবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, ই-পেমেন্ট ক্রেডিটের পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনা করতে হবে। গ্রাহকের কাগজে স্বাক্ষরের পরিবর্তে ব্যাংককে ডিজিটাল সম্মতি নিতে হবে। নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে গ্রাহককে সেবায় যুক্ত করতে হবে। পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) এবং দুই স্তরের বা মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন ব্যবহার করতে হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank