বৃহস্পতিবার
১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদেশি কোম্পানির বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার নিয়ম সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

বাংলাদেশে পরিচালিত শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়ার নিয়ম আরও শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠান এখন তাদের মূল কোম্পানি, সহযোগী প্রতিষ্ঠান বা বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ তুলনামূলক সহজ শর্তে নিতে পারবে।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটি দেশের ভেতরে ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ইপিজেড, পিইপিজেড, ইজেড ও হাইটেক পার্ক) পরিচালিত শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে থাকা শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন উৎপাদন ও সেবাখাতের প্রতিষ্ঠানগুলো এক বছরের কম মেয়াদে মূল কোম্পানি বা বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে ঋণ নিতে পারবে। কর্মপরিচালনার মূলধনের জন্য (ইনপুট ক্রয় ছাড়া) সুদবিহীন ঋণ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আগাম অনুমতির প্রয়োজন হবে না। এমনকি ঋণের মূল অর্থ ফেরত দিতেও আলাদা অনুমোদন লাগবে না।

তবে সুদযুক্ত স্বল্পমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে বার্ষিক সর্বোচ্চ অল-ইন-কস্ট ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ধরনের ঋণের মেয়াদ প্রয়োজনে নবায়ন করা যাবে, তবে মোট মেয়াদ তিন বছরের বেশি হতে পারবে না এবং তা মধ্য বা দীর্ঘমেয়াদি ঋণে রূপান্তরের সুযোগ থাকবে না।

মধ্যমেয়াদি ঋণে ৫ কোটি ডলার পর্যন্ত সুদমুক্ত সুবিধা:

এক থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি মধ্যমেয়াদি ঋণের অর্থ মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি, বৈধ সেবা গ্রহণ এবং অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহার করা যাবে।

এই মেয়াদে সুদবিহীন ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ কোটি মার্কিন ডলার। অন্যদিকে সুদযুক্ত ঋণের সীমা ৫০ লাখ ডলার, যেখানে সর্বোচ্চ সুদের হার হবে বার্ষিক ৩ শতাংশ।

৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত ঋণ এককালীন (বুলেট পেমেন্ট) পদ্ধতিতে পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে মধ্যমেয়াদি ঋণ পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদি ঋণে রূপান্তর করা যাবে।

দীর্ঘমেয়াদি ঋণেও সুদের সীমা ৩ শতাংশ

পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি ঋণের অর্থও মূলধনী বিনিয়োগে ব্যবহার করতে হবে। এ ক্ষেত্রেও সুদবিহীন ঋণকে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে সুদযুক্ত ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বার্ষিক সুদের হার ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে এককালীন পরিশোধের সুবিধা রাখা হয়নি।

যেসব শর্ত মানতে হবে

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে—

  • ঋণগ্রহীতার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের সন্তোষজনক রেকর্ড থাকতে হবে।
  • সুদযুক্ত ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ-ইকুইটি অনুপাত সর্বোচ্চ ৮০:২০ হতে হবে।
  • ঋণের অর্থ বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে জমা করতে হবে।
  • সব ধরনের লেনদেন অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
  • ঋণের অর্থ নির্ধারিত খাতেই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
  • ঋণ বিতরণের ১৪ দিনের মধ্যে এবং চুক্তি সংশোধনের ৭ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।
  • প্রয়োজনে বকেয়া ঋণ ইকুইটিতে রূপান্তরের সুযোগ থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থায়নের সুযোগ সহজ করা এবং দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণীয় করাই নতুন নীতির মূল উদ্দেশ্য।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন নীতির ফলে বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত কার্যকর মূলধন ও বিনিয়োগ অর্থায়নের সুযোগ পাবে, যা উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও নতুন বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
England VS Argentina
Scheduled
16 Jul, 01:00 AM
VS
World Cup