

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য (অর্থবছর ২০২৬-২৭) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার (Policy Rate) ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্থিতি নিশ্চিত করতে সংকোচনমূলক (Contractionary) মুদ্রানীতির ধারা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স সেন্টারে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের উপস্থিতিতে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান।
ঘোষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের "Monetary Policy Statement: July-December 2026"-এর নির্বাহী সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে মূল্যস্ফীতি নিম্ন ও স্থিতিশীল রাখা। একই সঙ্গে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রকৃত বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করাও এই নীতির উদ্দেশ্য।
মুদ্রানীতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতির সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালের মে মাসে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা মন্থর হওয়ায় সরকার রাজস্ব ও মুদ্রানীতির সমন্বয়ে পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
* সুদের হার অপরিবর্তিত
নতুন মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে—
নীতি সুদহার (Policy Rate) থাকবে ১০ শতাংশ।
Standing Lending Facility (SLF) থাকবে ১১.৫ শতাংশ।
Standing Deposit Facility (SDF) থাকবে ৭.৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধজুড়ে এই কঠোর নীতি বহাল থাকবে।
* ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা
বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে এবং শিল্প উৎপাদন চাঙ্গা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এ অর্থ মূলত শিল্প, কৃষি ও সিএমএসএমই খাতে বিতরণ করা হবে।
এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা আসবে ব্যাংকিং খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে এবং ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
* ব্যাংক খাতে সংস্কার
মুদ্রানীতিতে খেলাপি ঋণ (NPL) কমাতে কঠোর নিরীক্ষা, নতুন Bank Resolution Act 2026, Deposit Protection Act 2026, IFRS-9 ভিত্তিক Expected Credit Loss (ECL) বাস্তবায়ন এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি জোরদারের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি Bangla QR-এর মাধ্যমে আন্তঃব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার ডিজিটাল লেনদেন আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।
* ঝুঁকির কথাও বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানি ও সার আমদানিতে বিঘ্ন, জ্বালানি সংকট, কাঠামোগত ব্যয়জনিত মূল্যস্ফীতি, আর্থিক খাতের চাপ এবং বৈদেশিক খাতের ভারসাম্যহীনতা আগামী মাসগুলোতে অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে থাকতে পারে।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বাজেটে শুল্ক-কর সংস্কার, লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ সহায়তা এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রমের ফলে ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের গতি ফিরে আসতে পারে।