

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের ইতিহাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধের রেকর্ড হয়ে গেল চলতি অর্থবছরের ১১ মাসেই। অর্থবছরের আরো এক মাস বাকি। এরমধ্যেই বিদেশি ঋণদাতাদের সুদ এবং আসলসহ ৪১৩ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) সর্বমোট ৪১৩ কোটি ডলার ঋণ শোধ করেছে বাংলাদেশ। এরমধ্যে ঋণের বেশিরভাগ অংক পেয়েছে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাপান। সার্বিকভাবে বিদেশি ঋণের অর্থছাড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সুদ এবং আসল পরিশোধ করতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইআরডি জুলাই-মে মাসের বিদেশি ঋণ পরিস্থিতির হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী এই ১১ মাসে ঋণের বিপরীতে বিভিন্ন ঋণ দাতাসংস্থা ও দেশকে ৪১৩ কোটি ২৩ ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। যা বিদেশি ঋণ শোধে নতুন রেকর্ড। টাকার হিসাবে এই সময়ে ৫০ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা শোধ করতে হয়েছে।
এদিকে একই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মে ১১ মাসের এ সময়ে বিদেশি ঋণ ও অনুদান এসেছে প্রায় ৪৫৮ কোটি ডলার।
সূত্র মতে, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে বিদেশি ঋণ পরিশোধে চাপ বেড়েছে। গত অর্থবছরে প্রথমবারের মতো ৪০০ কোটি ডলারের বেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে। গত অর্থবছরের বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে ৪০৯ কোটি ডলার শোধ করেছে বাংলাদেশ। এবার ১১ মাসেই এর চেয়ে বেশি শোধ করল বাংলাদেশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঋণ শোধের পরিমাণ ছিল ৩৩৭ কোটি ডলার।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, যেভাবে ঋণ পরিশোধ চলছে, এই একই ধারায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হলে এ বছর বিদেশি ঋণ শোধের পরিমাণ সাড়ে ৪ বিলিয়ন বা ৪৫০ কোটি ডলার পার হতে পারে।
ইআরডির প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) বিদেশি ঋণের আসল ২৬৮ কোটি ৪৩ লাখ ডলার ও সুদ ১৪৫ কোটি ডলার শোধ করেছে সরকার। অন্যদিকে ৪১৪ কোটি ডলার ঋণ হিসেবে এবং ৪৩ কোটি ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে। অন্যদিকে বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতিও কমেছে। ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ৪২২ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে সাড়ে ৫০০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল।
এই ১১ মাসে সবচেয়ে বেশি ঋণ ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক দিয়েছে প্রায় ৯৬ কোটি ডলার। এরপর আছে রাশিয়া। দেশটি ৯৩ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে বাংলাদেশকে। আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দিয়েছে ৭৮ কোটি ডলার। চীন ও ভারত ছাড় করেছে যথাক্রমে ৫৩ কোটি ডলার ও ২৫ কোটি ডলার। জাপান দিয়েছে ৪৩ কোটি ডলার।