মঙ্গলবার
২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন পে-স্কেলে নিম্ন গ্রেডের কর্মীদের জন্য সুসংবাদ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:৩৫ এএম
expand
নতুন পে-স্কেলে নিম্ন গ্রেডের কর্মীদের জন্য সুসংবাদ

আগামী জুলাই থেকে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় সরকার নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ ও আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় উচ্চপদস্থদের তুলনায় নিম্ন আয়ের কর্মীদের বেশি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব এখন আলোচনায় রয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি হতে পারে। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির হার কম রাখা হতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত এক প্রতিমন্ত্রী দেশের একটি গণমাধ্যমকে জানান, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি আনুষ্ঠানিক এজেন্ডায় না থাকলেও বিবিধ আলোচনায় এটি গুরুত্ব পায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যে ঘোষণা দিয়েছেন, সে অনুযায়ী তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

তিনি আরও জানান, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের পারিবারিক ব্যয়ের চাপ বেড়েছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রথম বছরেই কম বেতনের কর্মচারীদের জন্য বেশি বেতন বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বেতন বৃদ্ধি করলে সরকারের পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, তবে সেই অনুপাতে রাজস্ব আয় বাড়বে কি না—এ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই আর্থিক সক্ষমতা ও মূল্যস্ফীতির চাপ মিলিয়ে উচ্চ আয়ের ক্ষেত্রে কম এবং নিম্ন আয়ের ক্ষেত্রে বেশি বৃদ্ধির প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে।

সরকার ইতোমধ্যে আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুরুতে পরিকল্পনা ছিল নতুন ও বর্তমান বেতন কাঠামোর পার্থক্যের ৫০ শতাংশ করে পরপর দুই অর্থবছরে মূল বেতন সমন্বয় করা হবে এবং শেষ অর্থবছরে ভাতার বর্ধিত অংশ দেওয়া হবে। তবে এখন সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে।

খসড়া আলোচনায় উঠে আসা একটি প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের জন্য নির্ধারিত বেতন বৃদ্ধির ৪০ শতাংশ আগামী অর্থবছরে কার্যকর করা হতে পারে। আর ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্তদের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি প্রথম বছরেই দেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ গঠন করা হয়। গত ২১ জানুয়ারি কমিশন তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেয়।

কমিশন বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। কর্মকর্তাদের হিসাবে, এই সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশন-২০২৫ বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন বৃদ্ধির আলাদা সুপারিশও জমা দিয়েছে।

গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ জন সচিবের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তিনটি কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সরকারের জন্য সুপারিশ প্রণয়নই এ কমিটির দায়িত্ব।

সূত্র জানায়, কমিটি ইতোমধ্যে জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সুপারিশ নির্ধারণ করা হয়নি।

চূড়ান্ত সুপারিশের আগে সরকারকে সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরতে নতুন বেতন কাঠামোর একটি খসড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছে।

কমিটির প্রাথমিক খসড়া সুপারিশে সর্বোচ্চ মূল বেতন ১২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সর্বনিম্ন বৃদ্ধির হার কত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Jordan VS Algeria
Scheduled
23 Jun, 09:00 AM
VS
World Cup