

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আলফা ই-শপে প্রাথমিকভাবে প্রায় দুই কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির দুটি শোরুমে একযোগে অভিযান চালিয়ে ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক দলিল জব্দ করে সংস্থাটির দুটি নিবারক দল। জব্দ করা নথি পর্যালোচনায় প্রাথমিকভাবে এই রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এনবিআর জানায়, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যবসা সম্প্রসারণের সঙ্গে ভ্যাট ফাঁকির প্রবণতাও বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূল্য সংযোজন কর, ঢাকা তাদের রিসার্চ টিমের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি কয়েকটি অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে। আলফা ই-শপও এসব প্রতিষ্ঠানের একটি এবং প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে অধিদপ্তরের অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর অধিদপ্তরের দুটি নিবারক দল একযোগে আলফা ই-শপের দুটি শোরুমে অভিযান পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ধরনের দামি ব্র্যান্ডের ফ্যান, ডেকোরেটিভ ফ্যান, ঘর সাজানোর লাইটিং, ঝাড়বাতি, ইলেকট্রনিক্স, ইন্টেরিয়র ডিজাইনের পণ্য, এসি ও টিভিসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি ও স্থানীয়ভাবে ক্রয় করে বিক্রি করে থাকে। পাশাপাশি নিজস্ব ইন্টেরিয়র ডিজাইন টিমের মাধ্যমে অফিস ও বাসার ইন্টেরিয়র ডিজাইনের কাজও করে প্রতিষ্ঠানটি।
এনবিআর আরও জানায়, ক্রেতা আকর্ষণে আলফা ই-শপ ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে। পোশাক ব্র্যান্ডের মতো প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্যবহার করে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে থাকে।
অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটিতে রক্ষিত ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বাণিজ্যিক দলিলাদি জব্দ করা হয়। এসব নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আলফা ই-শপ করপোরেট সেল, শোরুম সেল, বনানী অনলাইন শোরুম সেল, অনলাইন কল সেল, অনলাইন হোয়াটসঅ্যাপ কল সেল, অনলাইন ডিলার সেল ও ওয়েবসাইট সেলসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে।
এর পাশাপাশি বনানী-১১ ও মিরপুর-১২ এলাকায় অবস্থিত দুটি শোরুমের মাধ্যমেও প্রতিষ্ঠানটি পণ্য বিক্রি করে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
জব্দ করা দলিলাদি পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে প্রায় দুই কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করা হয়েছে। এনবিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ফাঁকিকৃত রাজস্ব পরিশোধে মৌখিক সম্মতি দিয়েছে।
তবে অনুসন্ধান ও জব্দ করা দলিলাদি পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণের প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
এনবিআর বলছে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যবসার পরিধি বাড়ার সঙ্গে রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে এ ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।

