মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুগ্ধ প্রকল্পে ৮৫% টাকা খরচের পরও ব্যয় বাড়ছে ৪৫ কোটি টাকা

তন্ময় ইসলাম
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম
ছবি: এনপিবি গ্রাফিক্স
expand

দুগ্ধ ঘাটতি পূরণে নেওয়া ‘দুগ্ধ ঘাটতি উপজেলায় দুগ্ধ সমবায়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের বড় একটি অংশের কাজ শেষ হলেও এর ব্যয় আবারও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটির প্রথম সংশোধিত ব্যয়ের তুলনায় এবার ৪৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা বাড়িয়ে দ্বিতীয় সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে জুন ২০২৮ পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ১৫৬ কোটি ৮৮ লাখ ২৪ হাজার টাকা। প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় কমিয়ে ১৩৩ কোটি ৮১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা করা হয়। এবার দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ১৭৯ কোটি ৫২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে প্রথম সংশোধিত ব্যয়ের তুলনায় নতুন করে ব্যয় বাড়ছে প্রায় ৪৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা। আর মূল অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় বাড়ছে ২২ কোটি ৬৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পটির ক্রমপুঞ্জিত আর্থিক অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ। ভৌত অগ্রগতিও হয়েছে ৮৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ প্রকল্পের নির্ধারিত ব্যয়ের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে খরচ হয়েছে এবং অধিকাংশ কাজও সম্পন্ন হয়েছে। এরপরও নতুন এলাকা অন্তর্ভুক্তি ও অসমাপ্ত কার্যক্রম শেষ করার যুক্তিতে ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পটির মূল বাস্তবায়নকাল ছিল জুলাই ২০২২ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত। প্রথম সংশোধনীতে মেয়াদ বাড়িয়ে জুন ২০২৭ করা হয়। এবার দ্বিতীয় সংশোধনীতে আরও এক বছর বাড়িয়ে জুন ২০২৮ পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নথিতে প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসেবে নতুন করে ২৫টি উপজেলা অন্তর্ভুক্তি, প্রকল্পের কার্যক্রম শুরুতে বিলম্ব, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে বিলম্ব এবং নতুন অন্তর্ভুক্ত উপজেলাগুলোতে কার্যক্রম শেষ করতে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং স্থানীয় জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে প্রকল্পের আওতা সম্প্রসারণের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

প্রকল্পটির আওতায় বর্তমানে দেশের ৪০ জেলার ৭৯টি উপজেলা রয়েছে। এসব দুগ্ধ ঘাটতি এলাকায় দুধ উৎপাদন বাড়ানো, দুগ্ধ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাই প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ৭ হাজার ২০০ জনকে প্রশিক্ষণ, গাভী ঋণ প্রদান, আবর্তক তহবিল গঠন, কৃত্রিম প্রজনন কর্মী তৈরির প্রশিক্ষণ এবং দুধ বিপণন কার্যক্রম। প্রকল্পের আওতায় ৭৯টি দুগ্ধ ঘাটতি উপজেলায় দুধ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ৭ হাজার ২০০ জন উপকারভোগীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ৫১ শতাংশ নারীর সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

তবে প্রস্তাবিত ১৭৯ কোটি ৫২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা এখনো প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদিত ব্যয় নয়। এটি দ্বিতীয় সংশোধনের প্রস্তাবিত ব্যয়। পরিকল্পনা কমিশনের পর্যালোচনা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষে প্রকল্পটির সংশোধিত ব্যয় ও মেয়াদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রকল্প পরিচালক তোফায়েল আহমেদ এনপিবি নিউজকে বলেন, নতুন উপজেলাগুলোতে কার্যক্রম বাস্তবায়নে অতিরিক্ত সময় এবং নির্বাচনী ইশতেহার ও স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে প্রকল্পের আওতা বাড়াতেই সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank