

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে অনুমোদিত পরিমাণ ৫০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশের বাজারে চালের পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখা, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। এতে আগে অনুমোদন পাওয়া ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত সুগন্ধি চাল রপ্তানির কোটা অর্ধেকে নামিয়ে নতুন করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন বরাদ্দ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর রপ্তানি অনুমোদনের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা ছোট ও মাঝারি রপ্তানিকারক—কোনো প্রতিষ্ঠানই আগের অনুমোদিত সীমার বেশি সুগন্ধি চাল বিদেশে পাঠাতে পারবে না।
এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের জন্য মোট ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মিলে রপ্তানি করতে পেরেছে ২ হাজার ৪১৯ টন।
কোটা কমানোর পাশাপাশি সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে নতুন করে ১০টি শর্ত আরোপ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রপ্তানি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি কার্যক্রমে নজরদারি বাড়ানো এবং রপ্তানি করা পণ্যের বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে ফেরত আনার বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এসব শর্ত দেয়া হয়েছে।
শর্তগুলো হলো:
১. রপ্তানি নীতি ২০২৪–২৭-এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
২. সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
৩. প্রতিটি চালান রপ্তানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে।
৪. প্রতিটি কনসাইনমেন্ট জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে।
৫. ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের অনুমোদিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে।
৬. কোনো অবস্থায়ই সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল রপ্তানি করা যাবে না।
৭. আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় প্রতি কেজি সর্বনিম্ন পণ্য উৎপাদন থেকে বন্দর পর্যন্ত (এফওবি) রপ্তানিমূল্য ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
৮. অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য; সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানি করা যাবে না।
৯. জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে।
১০. রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে প্রসিড রিয়েলাইজেশন সার্টিফিকেট (পিআরসি) জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, রপ্তানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ ও মূল্যস্থিতিকে অগ্রাধিকার দেয়া। এ কারণে সুগন্ধি চালের রপ্তানি কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানির পরিমাণ, মূল্য, নথিপত্র ও বৈদেশিক মুদ্রা দেশে ফেরত আনার বিষয়ে কঠোর শর্ত দেয়া হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে সুগন্ধি চালের রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। বরং খাদ্যনিরাপত্তা ও বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিতভাবে রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যেই কোটা কমানো হয়েছে।


