

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সংকটে থাকা দেশের স্পিনিং ও টেক্সটাইল শিল্পকে চাঙ্গা করতে বড় ধরনের প্রণোদনা দিয়েছে সরকার। রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পে দেশীয় সুতা ও কাপড় ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধার বিকল্প হিসেবে নগদ সহায়তার হার ১ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য কার্যকর হবে।
রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট (এফইপিডি)-১ এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা/প্রণোদনা সংক্রান্ত এফইপিডি-১ সার্কুলার নম্বর-১৭-এর আংশিক সংশোধন করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধার পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তার হার ১ দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারিত ছিল। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেই হার বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
তবে এই সুবিধা পেতে রপ্তানিকারককে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে রপ্তানিকৃত পোশাকে ব্যবহৃত সুতা বা কাপড় দেশীয় উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এজন্য বিজিএমইএ, বিকেএমইএ বা সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। এছাড়া দেশীয় সুতা বা কাপড় সংগ্রহের ক্ষেত্রে আগের সার্কুলার ও নির্দেশনার অন্যান্য শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জাহাজীকৃত (শিপমেন্ট হওয়া) রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে এই বাড়তি নগদ সহায়তা প্রযোজ্য হবে।
দেশীয় স্পিনিং ও টেক্সটাইল শিল্প দীর্ঘদিন ধরে আমদানি করা সুতা ও কাপড়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় চাপের মুখে রয়েছে। শিল্প মালিকরা দাবি করে আসছিলেন, স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার উৎসাহিত করতে নগদ সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন। সম্প্রতি এ বিষয়ে সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানায় বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার সহায়তার হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টদের মতে, নগদ সহায়তা ১ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে সরাসরি ৫ শতাংশে উন্নীত হওয়ায় স্থানীয় সুতা ও কাপড়ের ব্যবহার বাড়বে। এতে স্পিনিং, উইভিং ও ডাইং-ফিনিশিং খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, স্থানীয় মূল্য সংযোজন বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতা কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে পোশাক শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ আরও শক্তিশালী হবে এবং কর্মসংস্থানও বাড়তে পারে।
পোশাক শিল্পের সঙ্গে জড়িত গার্মেন্টস মালিকরা এই পদক্ষেপকে সরকারের ইতিবাচক মনোভাব হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, পোশাক শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারের যে প্রতিজ্ঞা তার প্রতিফলন এই সার্কুলার।
উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এর আগে ৪৩টি পণ্য ও সেবা খাতে রপ্তানি প্রণোদনা ও নগদ সহায়তার হার ঘোষণা করেছিল। সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হলেও দেশীয় সুতা ও কাপড় ব্যবহারকারী তৈরি পোশাক খাতের এই ৫ শতাংশ নগদ সহায়তার সিদ্ধান্তকে টেক্সটাইল শিল্পের জন্য সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।