

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের বিতর্কিত ভিডিও কাণ্ড এবং নথিপত্রে জালিয়াতির ধাক্কা এবার এসে লেগেছে মাঠপর্যায়ের কর্মী-সমর্থকদের গায়ে। ঘটনার প্রতিবাদে ও নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে প্রকাশ্যে ১ মণ দুধ ঢেলে গোসল করে দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতের এক স্থানীয় নেতা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নের হরিনাগাড়ী গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।
দল ত্যাগকারী ওই নেতার নাম মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি হরিনাগাড়ী গ্রামের মো. মুনসুর সরদারের ছেলে এবং নূরনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর বায়তুল মাল সম্পাদক ও যুব বিভাগের সেক্রেটারি পদে দায়িত্বরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের সামনে ১ মণ দুধ নিজের শরীরে ঢেলে গোসল করেন দেলোয়ার। দুধ দিয়ে শরীর ধুয়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সব ধরনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান।
ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে যে অনৈতিক ভিডিও ও তথ্য ফাঁস হয়েছে, তাতে সাধারণ কর্মী হিসেবে আমি চরম লজ্জিত ও অনুতপ্ত। যে আদর্শের কথা বলে রাজনীতি করেছি, সেই জায়গায় এমন নীতিহীন আচরণ মেনে নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই বিবেকের তাড়নায় ১ মণ দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে চিরতরে সম্পর্ক ইতি টানলাম।
গ্রামবাসী জানান, দেলোয়ার এলাকায় জামায়াতের একজন একনিষ্ঠ ও নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে এমপি নজরুলের ভিডিও স্ক্যান্ডাল, কাবিননামা ও বায়োডাটার মারাত্মক অসঙ্গতি সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মন ভেঙে দিয়েছে। দেলোয়ারের এই নজিরবিহীন পদত্যাগ প্রমাণ করে, এই ঘটনায় মাঠপর্যায়ে জামায়াতের ভেতরের ক্ষোভ কতটা গভীর রূপ নিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নূরনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেলোয়ার হোসেন তাদের ওয়ার্ডের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তবে তিনি বায়তুল মাল সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন কি না, তা দলীয় খাতা দেখে নিশ্চিত হতে হবে।
গাজী নজরুল ইসলাম কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর মাঠপর্যায়ের এক নেতার এভাবে দুধ দিয়ে গোসল করে দল ছাড়ার ঘটনা সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতের রাজনীতির সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন জেলা রাজনীতির বিশ্লেষকরা।