

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি ভাড়াবাসায় ওঠেন এক তরুণ ও তরুণী। একসঙ্গে থাকার ১২ দিনের মাথায় বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় ওই বাড়িতেই প্রেমিকাকে হত্যা করে পালান তরুণ।
গত ১৩ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকার একটি ভাড়াবাসা থেকে ২৩ বছর বয়সী সাদিয়া আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তে নেমে ১০ দিনের মাথায় অভিযুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার এবং হত্যার পেছনের কারণ উদ্ঘাটনের তথ্য জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সাইনবোর্ড এলাকায় পিবিআইয়ের জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির পরিদর্শক মিন্টু কুমার।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে স্বামী পরিচয় দেওয়া আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আরিয়ানকে। ২৫ বছর বয়সী আরিয়ান পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার প্রয়াত আলতাফ হাওলাদারের ছেলে।
তাকে গত ২১ জুলাই বিকেলে কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরদিন আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন বলে জানান পিবিআই পরিদর্শক মিন্টু কুমার।
এর আগে ১৬ জুলাই রাতে সাদিয়ার সদ্য প্রাক্তন স্বামী, ঢাকার বিবি বাগিচা রোড এলাকার মহিউদ্দিনের ছেলে মো. ইব্রাহিমকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়।
ভুক্তভোগী সাদিয়া আক্তার পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার উত্তর শিয়ালকাঠি গ্রামের ইউসুফ মোল্লার মেয়ে। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের একটি পোশাক কারখানার কর্মী ছিলেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
মামলার এজাহার ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাতে মিন্টু কুমার বলেন, নিহত তরুণী তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের পর ইব্রাহিমকে বিয়ে করেন। কিন্তু ইব্রাহিম আগে আরও একটি বিয়ে করেছেন এবং ওই সংসারে সন্তানও রয়েছে—এ তথ্য জানতে পারার পর সাদিয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সাদিয়ারও আগে একটি বিয়ে হয়েছিল। পরে তিনি আরিয়ানের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কে জড়ান এবং সম্প্রতি ইব্রাহিমকে তালাক দিয়ে আলাদাভাবে থাকতে শুরু করেন।
পিবিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১ জুলাই স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে একটি বাসা ভাড়া নেন সাদিয়া ও আরিয়ান। আরিয়ানের ওই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। গত ১২ জুলাই রাতে সাদিয়া তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে দুজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আরিয়ান গলাটিপে শ্বাসরোধ করে সাদিয়াকে হত্যা করেন। পরে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যান।
মরদেহ উদ্ধারের পর ১৫ জুলাই সাদিয়ার বড় ভাই রিয়াজ মোল্লা তাঁর সদ্য প্রাক্তন স্বামী ইব্রাহিমকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরদিন মামলাটির তদন্তভার নেয় পিবিআই। তদন্তের শুরুতে ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ডে তাঁর দেওয়া তথ্য এবং প্রযুক্তির সহায়তায় পরে আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আরিয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান পিবিআই কর্মকর্তা মিন্টু কুমার।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের সময় আরিয়ানের কাছ থেকে সাদিয়ার মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। নিহতের ছয় বছর বয়সী কন্যাও জানিয়েছে, তাঁদের বাসায় আরিয়ানের নিয়মিত আসা-যাওয়া ছিল। এ ছাড়া এলাকার সিসিটিভি ফুটেজেও আরিয়ানের যাতায়াতের প্রমাণ মিলেছে।
এ হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।