

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির কিংবদন্তি ক্রিকেটার সচিন টেন্ডুলকার। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এই ইস্যুতে সাবেক ক্রিকেটার যুবরাজ সিংয়ের পর দ্বিতীয় ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানালেন সচিন।
এদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন আরও জোরালো হচ্ছে। এনইইটি (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত লাখো শিক্ষার্থীর দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনশন কর্মসূচি শুরু করার পর। পরে দিল্লি পুলিশ তাকে আটক করলে আন্দোলন নতুন মাত্রা পায় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে এর বিস্তার ঘটে।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সচিন বলেন, সমাজের সংস্কৃতি গঠনে সবারই দায়িত্ব রয়েছে। তিনি লেখেন, আমার বাবা একজন অধ্যাপক ছিলেন। তিনি অনেক তরুণ শিক্ষার্থীর পরামর্শদাতা ও পথপ্রদর্শক ছিলেন। ছোটবেলাতেই তিনি আমাকে একটি শিক্ষা দিয়েছিলেন ব্যর্থতা মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু প্রতারণা নয়। কখনোই শর্টকাটের পথ বেছে নিও না।
সচিন আরও বলেন, সমাজের প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে আমাদের সবার দায়িত্ব সংস্কৃতি গড়ে তোলা। যে সমাজ পরিশ্রমের চেয়ে শুধু ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দেয়, সেখানে যোগ্যতার পরিবর্তে শর্টকাটের প্রবণতা তৈরি হয়। আজ যখন শিক্ষার্থীরা মনে করছে তাদের কঠোর পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি, তখন তাদের হতাশ হওয়াটা স্বাভাবিক। ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সচিনের লেখেন, কঠোর পরিশ্রম ও মেধারই সবসময় জয় হওয়া উচিত। তরুণ ভারত স্বপ্ন ও উদ্যমে পরিপূর্ণ। তারাই আমাদের সাফল্যের চালিকাশক্তি। অভিভাবক, শিক্ষক, বন্ধু, আত্মীয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসন সবারই দায়িত্ব রয়েছে তরুণদের উৎসাহিত ও উদ্যমী রাখার।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে, যেখানে পরিশ্রমের স্বীকৃতি থাকবে, সততা উৎসাহিত হবে এবং মেধার জয় হবে। আমি নিশ্চিত, আমরা সবাই মিলে এমন সমাধান খুঁজে পাব, যা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ আরও শক্তিশালী করবে এবং তাদের স্বপ্ন রক্ষা করবে।