

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রিয়াদ থেকে মক্কায় যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বেঁচে গেছেন প্রাণে বেঁচে গেছেন বাবা ও তাঁদের বড় ছেলে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টার দিকে রিয়াদ-মক্কা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নাজিমুদ্দিন মোল্লার মেয়ে তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫), তাঁর ছেলে তাসবিক (২০) এবং মেয়ে জারা (১৫)। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রিনার স্বামী শফিকুল ইসলাম খোকন এবং তাঁদের বড় ছেলে নাবিল। শফিকুল ইসলামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব এলাকায়। তিনি পরিবার নিয়ে সৌদি আরবের রিয়াদে বসবাস করতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ওমরাহ হজ পালনের উদ্দেশ্যে নিজস্ব প্রাইভেট কারে করে সপরিবারে রিয়াদ থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হন শফিকুল ইসলাম। রিয়াদ থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার যাওয়ার পর রিয়াদ-মক্কা মহাসড়কে পেছন থেকে একটি দ্রুতগামী বড় যানবাহন তাদের প্রাইভেট কারটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মা তানিয়া, ছোট ছেলে তাসবিক ও মেয়ে জারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
নিহত তানিয়া তাহমিনা রিনার ভাই তৌহিদ মোহাম্মদ মুরাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওমরাহ পালনের পথে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তাঁর বোন ও দুই ভাগনে-ভাগনি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।
তিনি আরও জানান, তাঁর ভগিনীপতি শফিকুল ইসলাম ও বড় ভাগনে নাবিল গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।
একই পরিবারের তিন সদস্যের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে ফরিদপুরের সালথা ও কিশোরগঞ্জের ভৈরবে তাঁদের নিজ গ্রামে এবং সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।