শুক্রবার
০৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় প্রধান শিক্ষকের চেয়ার দখল মামলায় জামায়াত নেতা কারাগারে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে তাঁর কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার দখলের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাতক্ষীরার এক সহকারী শিক্ষক ও ইউনিয়ন জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নজরুল ইসলাম আসামি একেএম আজহারুজ্জামান মুকুলের জামিন আবেদন খারিজ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আজহারুজ্জামান মুকুল সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বল্লী ইউনিয়ন শাখা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র সেক্রেটারি এবং বল্লী মো. মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

মামলার বাদী বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জামিলুজ্জামান। তিনি ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর সাতক্ষীরার আমলি আদালত-১ এ মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে অভিযুক্ত মুকুলের নেতৃত্বে কয়েকজন বহিরাগত বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামিলুজ্জামানকে তাঁর কক্ষ থেকে জোর করে বের করে মারধর ও লাঞ্ছিত করে। পরে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার দখল করা হয়।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কয়েকজন ব্যক্তি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধর করে বের করে দিচ্ছেন। অন্য একটি ভিডিওতে অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে বসে বলতে শোনা যায়, “আমার রাজ্যে আমি রাজা, কারও কথা শোনার সময় নেই।” পাশাপাশি তিনি হুমকি দেন, জামিলুজ্জামানকে আর ওই চেয়ারে বসতে দেওয়া হবে না।

সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা মাছুদ পারভেজ তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর একেএম আজহারুজ্জামান মুকুলসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

এর আগে উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করলে মুকুলকে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। তবে আদালত তা নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মুজিদ বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার দখল করেছিলেন। তদন্তে বিষয়টির সত্যতা পাওয়ায় আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিলেন এবং অনিয়মিত থেকেও বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পরবর্তী দুই দিনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন