শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরার সঙ্গে সৎ মায়ের মতো আচরণ করা হয়েছে: জামায়াত আমির

মো: হোসেন আলী, সাতক্ষীরা
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
expand
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা আপনাদের কাছে আহ্বান ও অনুরোধ জানাই, ন্যায় ও ইনসাফ কায়েমের জন্য, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য, দীনদার সরকার গঠনের জন্য এবং মদিনার শাসনামলের আদলে একটি সুশাসন কায়েম করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার চারটি আসন যদি আপনারা আমাদের উপহার দেন, তাহলে আপনাদের প্রতি আমরা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব। সেই আস্থার ঋণ পরিশোধ করতে আমাদের পুরো সময়জুড়ে আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টায় সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

জনসভায় যোগ দিতে জামায়াতে আমির ডা. শফিকুর রহমান হেলিকপ্টারযোগে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে অবতরণ করেন। পরে বেলা ১২টার দিকে জনসভাস্থলে পৌঁছালে হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ স্লোগান ও হাত নেড়ে তাকে অভিবাদন জানান। এ সময় পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে সাতক্ষীরায়। একটি সিঙ্গেল জেলায় কোথাও এত সংখ্যক মানুষকে হত্যা করা হয়নি। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর ধরে সাতক্ষীরাকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে, সৎ মায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে এ জেলার মানুষের সঙ্গে।

তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরা সহ সারা বাংলাদেশে কোথাও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েনি, কোনো দখলদারিত্বে যায়নি, মামলা বাণিজ্যে লিপ্ত হয়নি। যে ব্যক্তি অপরাধ করেনি, তাকে কখনোই মিথ্যা মামলার আসামি করা হয়নি। আমরা হাজার হাজার মামলা করিনি। বরং যারা মামলা করতে চেয়েছে, তাদের অনেককেই নিরুৎসাহিত করেছি। আমরা বলেছি ক্ষমা মহত্ত্বের লক্ষণ, পারলে ক্ষমা করে দাও। এর বিনিময়ে আল্লাহ দুনিয়াতেও দেবেন, আখেরাতেও দেবেন।

ন্যায়বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার চাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। কেউ আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাইলে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। তবে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, কোনো নিরপরাধ নারী কিংবা পুরুষকে যেন মামলার আসামি করা না হয়।

জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী বছরের পর বছর ধরে রাষ্ট্রের সম্পদ, বাজারব্যবস্থা ও প্রশাসনিক সুযোগ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিল। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের বিনিময়ে সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন এসেছে। এখন আর কাউকে পুরোনো অন্যায়ের পথে ফিরে যেতে দেওয়া হবে না। এজন্য সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি, যেন কোথাও কোনো সিন্ডিকেট নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক নয়। এই রাজনীতি মানবিক, জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সুশাসনের জন্য আদর্শ, সততা ও নৈতিকতাভিত্তিক নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং প্রথমে ‘হ্যাঁ’ ভোট ও পরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, তরুণ সমাজই আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রধান শক্তি। তরুণদের দায়িত্বশীল ও সচেতন ভূমিকার মাধ্যমেই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

জনসভায় জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, মুহাদ্দিস রবিউল বাসার, গাজী নজরুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা।

এছাড়া ১১টি শরীক দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী জনসভায় অংশ নেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ জনসভা শেষে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X