বৃহস্পতিবার
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুর যেন অপরাধের স্বর্গরাজ্য, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় বেপরোয়া অপরাধীরা

রকি আহমেদ, রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৪ এএম
রংপুর সদর কোতয়ালী থানা। ছবি: এনপিবি
expand

রংপুর সদর উপজেলায় চুরি, ডাকাতি, মাদক ও জুয়ার বিস্তার নিয়ে জনমনে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। একের পর এক চুরির ঘটনা, বিভিন্ন এলাকায় মাদক ও জুয়ার অভিযোগ এবং পুলিশের নিয়মিত টহল ও দৃশ্যমান তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন - আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কতটা সক্রিয়?

জানা যায়, সম্প্রতি সদর উপজেলার হরিদেবপুর ইউনিয়নের রতিরামপুর হাজীপাড়া গ্রামের আনছার আলীর ছেলে রাশেদুল ইসলামের গরুর খামার থেকে এক রাতেই দুটি গরু চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সদর কোতয়ালী থানার কাছাকাছি এলাকায় এমন ঘটনা ঘটলেও থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মমিনপুর, হরিদেবপুর, চন্দনপাট, সদ্যপুস্করিনী ও খলেয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি, মাদক ও জুয়ার তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অনেক এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহলও চোখে পড়ে না বলে অভিযোগ তাদের। ফলে সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি স্থানীয়দের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এমনকি অর্থ ছাড়া মামলা রেকর্ড বা তদন্ত এগোয় না- এমন গুরুতর অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।

স্থানীয়দের মতে, কোনো অপরাধের অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়া, তদন্ত করা এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হলে অপরাধীদের মধ্যে ভয় তৈরি হয়। কিন্তু অভিযোগের যথাযথ প্রতিকার না হলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এমন উদ্বেগের মধ্যেই সদর উপজেলা প্রেসক্লাবের আবাসন প্রকল্পের জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কর্তৃক বরাদ্দ দেওয়া তিনটি স্ট্রিট লাইটের একটি পিলারসহ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সদর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মহিউদ্দিন মখদুমী তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে পিলারসহ স্ট্রিট লাইট কেটে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আবাসন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত স্ট্রিট লাইট পিলারসহ কীভাবে কেটে নেওয়া হলো এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের দাবি উঠেছে।

এদিকে প্রবাসী সাংবাদিক নওশের আলম সুমনকে সদর কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরকারি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ব্লক করে রাখার অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত ওসি মো. জহুরুল হকের বিরুদ্ধে।

সুমনের পরিবারের দাবি, হুমকির কারণে তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না। আইনি সহায়তা ও নিরাপত্তার বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করায় তাকে সরকারি নম্বর থেকে ব্লক করা হয়েছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরিবারটির মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

নিয়মিত চুরি, ডাকাতি, মাদক, জুয়া, স্ট্রিট লাইট চুরি এবং প্রবাসী সাংবাদিককে হোয়াটসঅ্যাপে ব্লকের অভিযোগসহ সার্বিক বিষয়ে সদর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহুরুল হকের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, সদর উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার, চুরি-ডাকাতির অভিযোগ দ্রুত তদন্ত, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান এবং থানায় অভিযোগকারীদের হয়রানি বা ভোগান্তির অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তাদের দাবি, থানা পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ লেনদেন, মামলা গ্রহণে গড়িমসি, অভিযোগকারীদের হয়রানি কিংবা দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

একই সঙ্গে চুরি, ডাকাতি, মাদক, জুয়া ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে সদর উপজেলার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank