

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কাপ্তাই হ্রদের পানি কমতে শুরু করায় আট দিন পর বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রোববার রাত ৯টার পর কপাটগুলো বন্ধ করা হয়। তবে জলকপাট বন্ধ হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট থেকে প্রতিদিন ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী তারেক আহমেদ জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটই চালু রয়েছে।
তিনি জানান, রোববার রাতে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১০৪ দশমিক ৯৮ মিটার এমএসএল। হ্রদটির সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ মিটার এমএসএল।
এর আগে পানির উচ্চতা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছালে গত ২৯ আগস্ট রাত ৮টায় কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ছয় ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়েছিল। তখন প্রতি সেকেন্ডে ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া হচ্ছিল।
এরপর হ্রদের পানির চাপ বাড়তে থাকায় কয়েক দফায় জলকপাট দিয়ে পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ৩০ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে ১৬টি কপাট তিন ফুট করে খুলে রাখা হয়েছিল। ওই সময় বিপুল পরিমাণ পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হয়।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান বলেন, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় হ্রদের পানির উচ্চতা ধীরে ধীরে কমছে। এ পরিস্থিতিতে জলকপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আবার কপাট খোলা হবে কি না, তা নির্ভর করবে হ্রদের পানির উচ্চতার ওপর।
কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে। ১৯৬০ সালে কর্ণফুলী নদীর ওপর বাঁধটি নির্মাণের পর প্রায় ৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে তৈরি হয় কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদ। বর্তমানে দেশের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


