

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সরকারের দেওয়া বিভিন্ন কার্ডের সমালোচনা করে এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ‘রাজশাহী থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। যিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন আজকে ভাগ্যচাকায় উনি আমার জন্মস্থান চাঁদপুরে, আর আমি ওনার জন্মস্থান রাজশাহী এসে পড়েছি। চাঁদপুরের উন্নয়ন হয় নাই, রাজশাহীরও উন্নয়ন হয় নাই। শুধু আমরা পেয়েছি কতগুলো কার্ড, যে কার্ডগুলো পকেটে নিয়ে ঘুরতে হবে। এই কার্ডে যদি টাকা না আসে, তাহলে আমরাও একটা কার্ড বানাব সেই কার্ডের নাম হলো লাল কার্ড। এই লালকার্ডটা আমরা সরকারের হাতে ধরিয়ে দেব।’
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিভিন্ন দল থেকে এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘বাংলাদেশে যদি আপনি সংস্কার বাস্তবায়ন না করেন, তাহলে বাংলাদেশে আপনার গদি থাকবে কি না সেই নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারি না। কারণ, জনগণ ভোট দিয়েছে। জনগণ ম্যান্ডেট দিয়েছে। এই জনগণের বাক্সে যদি কেউ লাথি মারতে চায়, আমরাও তার গদিতে লাথি মারতে কোনো কুণ্ঠাবোধ করব না।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা উকিঝুঁকি করতেছে। আওয়ামী লীগ বিভিন্ন জায়গায় মিছিল নামাচ্ছে। আমরা সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলব- যদি শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আসতে পারে। যদি শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আসতে পারে; তাহলে তারা প্রথম কোপ, প্রথমে গুলি চালাবে তারেক রহমানের ওপরে। তারেক রহমানের ইতিহাস জানা উচিত। সেই সময় তারা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিল।’
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ‘যদি উনি ইতিহাস না জানেন, তাহলে তার বাপের যে পরিণতি হয়েছিল, একই পরিণতি সন্তানের হবে। এই জন্য তারেক রহমানকে আমরা বলব- ডোন্ট ডু কম্প্রোমাইজ উইথ আওয়ামী লীগ। আমরা কিন্তু একই ফ্রন্টে যুদ্ধে করছি। তাহলে আমাদের ফ্রন্টিয়ার লাইন দুটি হবে। আমরা কিন্তু একই পাল্লায় বিএনপি এবং আওয়ামী লীগকে রাখতে দ্বিধা করব না।’
ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই দিনে রাজশাহী থেকে ভারতের বিরুদ্ধে একটি বড় যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এই দিবসে মওলানা ভাসানী ভারতের বিরুদ্ধে বলেছিলেন পানির ন্যায্য অধিকার ছাড়ব না। সেই ভাসানীর যে মার্কা ছিল তা বিএনপি চুরি করে আজকে ভারতের বিরুদ্ধে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করেছে। যদি তোমরা ভাসানীর মার্কা নিতে পার, তাহলে তার নীতিও নিতে হবে। না হলে ভাসানীর মার্কা ফেরত দাও।’
তিনি বলেন, ‘ভারতীয় যে বাহিনী রয়েছে বাংলাদেশে, সিভিল ফরমেটে আওয়ামী লীগ। এই ভারতকেন্দ্রীক বাহিনীর সঙ্গে কোনো কম্প্রোমাইজ করা চলবে না। ভারতের সঙ্গে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি চলবে না। যদি বলেন সরবার আগে বাংলাদেশ, তাহলে সীমান্তে কীভাবে খুন হয়।’
নদীতে পানি না থাকায় খাল খননেরও সমালোচনা করে এনসিপি নেতা বলেন, ‘এরা আমাদের উল্টো সায়েন্স বোঝায়। যদি খাল খনন করতে হয়, তাহলে তো আগে নদীতে পানি নিয়ে আসতে হবে। এখন যদি ভারতের সামনে গিয়ে নমো নমো শুরু করে, তাহলে কি আমাদের কোনো ব্যবস্থা হবে? এই জন্য সরকারকে বলব, রাজশাহীবাসীর নদীতে আমরা পানি চাই। আমাদের জীবন বাঁচাতে হলে পানি দরকার। রাজশাহীবাসীকে বলব, যদি পদ্মা নদীতে পানি না আসে, আপনারা ঢাকায় যাবেন, ভারতের দিকে লংমার্চ করবেন।’
যোগদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যুগ্ম সদস্য সচিব এ বি এম গাজী সালাউদ্দিন আহমেদ, এসএম সাইফ মোস্তাফিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এনসিপির মহানগরের সদস্যসচিব আতিকুর।