

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে লক্ষ্য করে কড়া সামরিক বার্তা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে পাকিস্তান যদি অনতিবিলম্বে তাদের মাটিতে সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দেওয়া এবং ভারতের বিরুদ্ধে শত্রুভাবাপন্ন অপতৎপরতা চালানো বন্ধ না করে, তাহলে ভবিষ্যতে দেশটি বিশ্ব মানচিত্রে থাকবে নাকি ইতিহাসে হারিয়ে যাবে সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে বলে সতর্ক করেছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী।
শনিবার (১৬ মে) নয়াদিল্লির মানেকশ সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। ‘ইউনিফর্ম আনভেইল্ড’ প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘সেনা সংবাদ’ শীর্ষক ইন্টারেক্টিভ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের দীর্ঘদিনের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তার সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র এই বক্তব্য দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে তাকে প্রশ্ন করা হয়, গত বছরের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর মতো পরিস্থিতি যদি আবার সীমান্তে তৈরি হয়, তাহলে ভারতীয় সেনাবাহিনী কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে। জবাবে তিনি পূর্বের অবস্থান তুলে ধরে স্পষ্ট করে দেন যে, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ভারত কোনো ধরনের আপস করবে না।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আপনারা যদি আগে আমার বক্তব্য শুনে থাকেন, তবে জানেন আমি কী বলেছিলাম... পাকিস্তান যদি ক্রমাগত সন্ত্রাসবাদীদের লালন-পালন করতে থাকে এবং ভারতের ক্ষতি করার চেষ্টা চালিয়ে যায়, তবে তাদেরই এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা নিজেদের ভূগোলের অংশ হিসেবে টিকিয়ে রাখবে নাকি ইতিহাসের পাতায় বিলীন করে দেবে।’
ভারতীয় সেনাপ্রধানের এই বিস্ফোরক মন্তব্যটি এমন একটি সময়ে এল, যার মাত্র কয়েক দিন আগেই দেশটির সরকার ও সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রথম বার্ষিকী পালন করেছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসের শুরুতে কাশ্মীরের পাহালগামে একটি ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলা চালায় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিরা। সেই কাপুরুষোচিত হামলার প্রতিশোধ নিতে এবং সন্ত্রাসবাদের সমূলে উৎপাটন করতে গত বছরের ৭ মে ভোরে ভারতীয় সামরিক বাহিনী পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ড এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) অবস্থিত একাধিক সন্ত্রাসী আস্তানা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে একযোগে নিখুঁত বিমান ও সামরিক হামলা বা প্রিসিশন স্ট্রাইক চালায়, যা সামরিক ইতিহাসে ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে পরিচিত।
ভারতের সেই আকস্মিক হামলার পর পাকিস্তানও পাল্টা সামরিক আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করেছিল এবং তার জবাবে ভারতের পরবর্তী সমস্ত কাউন্টার-অফেনসিভ বা প্রতিরোধমূলক সামরিক অভিযানগুলোও এই অপারেশন সিন্দুরের অধীনেই পরিচালিত হয়েছিল। দুই দেশের এই ভয়াবহ সামরিক সংঘাত ও আকাশ যুদ্ধ টানা ৮৮ ঘণ্টা ধরে চলেছিল, যা সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করে।
পরবর্তীতে দুই দেশের শীর্ষ কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে তীব্র আলোচনার পর ১০ মে সন্ধ্যায় একটি গোপন ও পারস্পরিক যুদ্ধবিরতি সমঝোতায় পৌঁছালে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে প্রথম বার্ষিকীতে ভারতীয় সেনাপ্রধানের এই নতুন হুমকি প্রমাণ করে, দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনা এখনো বিন্দুমাত্র কমেনি।
সূত্র: এনডিটিভি
