শনিবার
১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিডনি ভালো রাখতে সকালের যেসব অভ্যাস উপকারী

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ০৮:১৭ এএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

দিনের শুরুটা যদি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস দিয়ে করা যায়, তাহলে কিডনি দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা অনেক সহজ হয়। আমাদের শরীরের বর্জ্য বের করা, শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে কিডনি। তাই প্রতিদিন সকালে ছোট ছোট কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে কিডনির কার্যক্ষমতা ভালো থাকে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হয়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু উপকারী অভ্যাস যা আমাদের কিডনিকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।

ঘুম থেকে উঠে পানি পান করুন সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি পান করা কিডনির জন্য খুবই উপকারী। পর্যাপ্ত পানি কিডনিকে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে। শরীরে পানির ঘাটতি হলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

হালকা গরম পানির সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে পান করতে পারেন। লেবুতে থাকা সাইট্রেট কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

খেয়াল রাখবেন, সকালে অতিরিক্ত চিনি বা বেশি ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো।

হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করুন

সকালে কিছুক্ষণ স্ট্রেচিং বা হালকা যোগব্যায়াম করলে রক্ত চলাচল ভালো হয় এবং মানসিক চাপ কমে। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস কিডনি রোগের বড় ঝুঁকি, আর নিয়মিত ব্যায়াম এগুলো নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

কিডনির জন্য উপকারী দুটি যোগব্যায়াম চাইল্ড পোজ ও সিটেড ফরোয়ার্ড বেন্ড। মনে রাখবেন, ব্যায়ামের জন্য প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় দিলেও উপকার পাওয়া যায়।

স্বাস্থ্যকর নাশতা খান দিনের প্রথম খাবার শরীরের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। তাই সকালের নাশতায় কিডনিবান্ধব খাবার রাখার চেষ্টা করুন।

যেমন: আপেল, তরমুজ ও বিভিন্ন ধরনের বেরি জাতীয় ফল, শসা ও ক্যাপসিকাম বা ডিমের সাদা অংশ। অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়াই ভালো, কারণ এগুলো কিডনির ওপর চাপ বাড়ায়।

হারবাল চা পান করতে পারেন কিছু হারবাল চা শরীর থেকে টক্সিন বের করতে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। যেমন - ড্যান্ডেলিয়ন রুট টি ও নেটল টি (বিছুটি)।

তবে আগে থেকে কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই যেকোনো কিছু খাওয়া বা পান করা উচিত।

সকালে অতিরিক্ত কফি পান করবেন না এক কাপ চা বা কফি দিন শুরুতে সতেজতা দিতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করতে পারে এবং কিডনির ওপর চাপ ফেলতে পারে।

তাই পরিমিত পরিমাণে কফি পান করুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে ভুলবেন না।

মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন স্ট্রেস বা মানসিক চাপ কিডনির স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত চাপ কর্টিসল হরমোন বাড়ায়, যা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তৈরি করে।

সকালে কয়েক মিনিট গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা মেডিটেশন করলে মন শান্ত থাকে।

সহজ একটি শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যায়াম হলো ৪-৭-৮ ব্রিদিং। এতে-

  • ৪ সেকেন্ড নাক দিয়ে শ্বাস নিন
  • ৭ সেকেন্ড ধরে রাখুন
  • ৮ সেকেন্ড ধরে ধীরে ধীরে ছাড়ুন
  • এভাবে কয়েক মিনিট অনুশীলন করতে পারেন।

প্রস্রাবের রঙ খেয়াল করুন হালকা হলুদ রঙের প্রস্রাব সাধারণত শরীরে পর্যাপ্ত পানির ইঙ্গিত দেয়। খুব গাঢ় রঙের প্রস্রাব পানিশূন্যতা বা অন্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

যদি দীর্ঘদিন এমন পরিবর্তন দেখা যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

খাবারে কিছু উপকারী উপাদান যোগ করুন কিছু খাবার কিডনির জন্য বিশেষভাবে উপকারী বলে ধরা হয়। যেমন - ক্র্যানবেরি, রসুন ও হলুদ।

হলুদে থাকা কারকিউমিন প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। চাইলে হালকা গরম পানিতে সামান্য হলুদ ও মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।

প্রতিদিনের স্বাস্থ্য পরিকল্পনা করুন দিনের শুরুতে একটু পরিকল্পনা করলে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বজায় রাখা সহজ হয়। যেমন- কতটা পানি খাবেন, কী খাবেন ও কখন হাঁটবেন বা ব্যায়াম করবেন। এসব লিখে রাখলে নিয়ম মেনে চলা সহজ হয়।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস আছে, তাদের নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করা উচিত। শুরুতেই সমস্যা ধরা পড়লে জটিলতা এড়ানো সহজ হয়।

সঠিক অভ্যাস ও নিয়মিত যত্নের মাধ্যমে কিডনিকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব। ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর পরিবর্তনই ভবিষ্যতে বড় উপকার এনে দিতে পারে।

সূত্র: কিডনি কেয়ার সেন্টার

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন