

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জুলাই আন্দোলনে গুলিতে নিহত বিতর্কিত ইমতিয়াজের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার হাটপুকুরিয়া-ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের পশ্চিম গোবিন্দপুর গ্রামের ওয়ালী ব্যাপারী বাড়ীর হাবিবুর রহমানের ছেলে জুলাই আন্দোলনের বিতর্কিত শহীদ ইমতিয়াজ হোসেন (২২) এর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়।
জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাহাদাত হোসেন এর নেতৃত্বে ৭ জানুয়ারি (বুধবার) দুপুরে লাশটি উত্তোলন করা হয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন বিকেলে চাটখিল থানার লুঠ হওয়া অস্ত্র বহন করতে গিয়ে আত্মঘাতী গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয় ইমতিয়াজ হোসেন। তাকে প্রথমে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। পরে ঢাকায় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তির পরের দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। ইমতিয়াজের বাবা সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান তার ছেলের নাম জুলাই আন্দোলনে শহিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন এবং বিভিন্নভাবে কিছু সহযোগিতাও পান।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতারা নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে ভুয়া শহীদ ইমতিয়াজ এর নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করেন। এ আবেদনের পর ঘটনার তদন্ত শুরু করেন সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা।
এ দিকে ইমতিয়াজ মারা যাওয়ার প্রায় ১ বছর পর ইমতিয়াজের বাবা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে নোয়াখালী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাবেক এমপি এইচ এম ইব্রাহিম সহ জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী ৫৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৭০/৮০ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এ মামলার কপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চাটখিলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি ও চাঁদাবাজি ছিল তার মূল উদ্দেশ্য।
সরকারিভাবে সারাদেশে এ জাতীয় জুলাই আন্দোলনের বিতর্কিত শহীদদের লাশ কবর থেকে উত্তোলনের অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার চাটখিলেও ইমতিয়াজের লাশ উত্তোলন করা হয়। লাশ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে বলে এলাকাবাসী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন
