

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ময়মনসিংহের ভালুকা শিল্পাঞ্চলে কয়েক দিন ধরে গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় গ্যাসনির্ভর কারখানাগুলোর উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে গ্যাসনির্ভর ৭৬টি কারখানার অনেকগুলোই বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে ২৯৩টি শিল্পকারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ৭৬টি গ্যাসচালিত। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি গ্যাসচালিত কারখানাই গ্যাস-সংকটে পড়েছে। বাকি ২১৭টি কারখানায় জেনারেটর ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আংশিক উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
ভালুকার হামিদ টেক্সটাইল মিলের অ্যাডমিন ম্যানেজার মো. নোমান জানিয়েছেন, কারখানায় এক হাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছে। গত চার দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ একবারে কম। ডিজেলে বয়লার চালু আছে। এতে কারখানায় বেড়েছে উৎপাদন খরচ, উৎপাদন কমেছে ৩০-৫০ শতাংশ। ফলে যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে কারখানা।
শেফার্ড গ্রুপের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রায় এক মাস ধরে গ্যাসের সরবরাহ ধীরে ধীরে কমছিল। গত চার দিনে এটি প্রকট আকারে ধারণ করেছে। ফলে তাদের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে গেছে। পরিস্থিতি কত দিন চলবে, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা না থাকায় দীর্ঘমেয়াদে কারখানা বন্ধের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
এ সম্পর্কে শিল্প পুলিশ-৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার গোপীনাথ কাঞ্জিলাল জানান, বৃহস্পতিবার গ্যাসের চাপ কম থাকায় দুপুরের খাবারের সময় মাহাদি সোয়েটার্স লিমিটেড, সুলতানা সোয়েটার্স, লিজ ফ্যাশন, টিএম টেক্সটাইল, ত্রিশাল টেক্সটাইল, বিএসপি স্পিনিং মিলসহ ২০টি প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেয়।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন) শামীম হোসেনের ভাষ্য, ভালুকায় ১৪০-৫০ পিএসআইয়ের দুটি পৃথক লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে তারা ৩০-৫০ পিএসআই গ্যাস পাচ্ছেন। সরবরাহ কম পাওয়ায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে বলে ওই ব্যবস্থাপকের ভাষ্য।


