

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সন্ধ্যা নামার আগে গ্রামের নদীর ধারে ৯৬টি ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে কেঁপে উঠলো আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রাম।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামে পরিত্যক্ত জমির মাটির নিচ থেকে তিন দিন পর ৯৬টি ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করেছে যশোর সেনানিবাস থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী (বোম ডিসপোজাল) ইউনিট। পরে উদ্ধার হওয়া মাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়। এ সময় বিকট বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।
উদ্ধার হওয়া মাইনগুলোর মধ্যে ৭৯টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন এবং ১৭টি অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন রয়েছে। সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী দলের নেতৃত্ব দেন মেজর তারিকুল ইসলাম।
গত শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে বেতবাড়িয়া গ্রামের কালু মালিথার একটি পরিত্যক্ত জমিতে মাটির নিচে ল্যান্ডমাইন সদৃশ বস্তু দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়।
মাইন সদৃশ বস্তু উদ্ধারের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে বোম ডিসপোজাল ইউনিট পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়।
এর তিন দিন পর আজ সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সময় অভিযান চালিয়ে মাটির নিচ থেকে ৯৬টি ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা মাইনগুলো নিরাপদ স্থানে নিয়ে নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা করা হয়। পরে পার্শ্ববর্তী মধুগাড়ি গ্রামের মাঠে নিয়ে গিয়ে উদ্ধার হওয়া ল্যান্ডমাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়। এদিকে মাইন উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে স্থানীয় মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। গত শনিবার থেকেই ঘটনাস্থলটি নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে রাখা হয়েছিল।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মূর্শেদ জানান, দুপুরে যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে মেজর তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বোম ডিসপোজাল ইউনি ট একটি দল ঘঠনাস্থলে এসে ৭৯টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন এবং ১৭টি অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী মাঠে নদীর ধারে মাটি খুঁড়ে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়।