

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নির্মাণকাজ চলায় বাড়িতে বাইরের লোকজনের যাতায়াত বেড়েছিল। নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রায় ২৯ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার উঠানের মাটির নিচে লুকিয়ে রেখেছিলেন এক গৃহকর্ত্রী। কিন্তু টাইলস বসানোর সময় সেই গোপন জায়গা খুঁজে পেয়ে যায় দুই মিস্ত্রি। পরে সুযোগ বুঝে স্বর্ণ নিয়ে পালিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের সেই কাণ্ড ধরা পড়ে বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায়। পরে পুলিশের অভিযানে একজন গ্রেফতার হয় এবং উদ্ধার করা হয় চুরি যাওয়া অধিকাংশ স্বর্ণালংকার।
ঘটনাটি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মুন্দা মাঝের গ্রামে। এ ঘটনায় সোমবার (৬ জুলাই) গাংনী থানায় একটি মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী।
মামলার বাদী মোছা. নার্গিস বানু জানান, তার একমাত্র ছেলে শাহীন কুয়েত প্রবাসী। ছেলের পাঠানো টাকায় বাড়ির একতলা ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। গত ৩০ জুন থেকে পাঁচজন টাইলস মিস্ত্রি কাজ করছিলেন। বাড়িতে বাইরের লোকজন থাকায় নিজের ও দুই মেয়ের ব্যবহৃত প্রায় ১১ ভরি ১৪ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার একটি প্লাস্টিকের কৌটায় রেখে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় বাড়ির উঠানের সিঁড়ির পাশে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখেন। এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ২৯ লাখ ৬ হাজার ২৫০ টাকা।
তিনি বলেন, গত ৫ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মিস্ত্রিরা কাজ শেষ করে চলে যাওয়ার পর তিনি দেখতে পান, যেখানে স্বর্ণালংকার রাখা হয়েছিল সেখানে মাটি খোঁড়া। পরে খুঁজে স্বর্ণালংকার না পেয়ে বিষয়টি প্রবাসী ছেলে শাহীনকে জানান।
এরপর শাহীন বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখতে পান, বিকেল ৪টা ২৩ মিনিটের দিকে দুই টাইলস মিস্ত্রি মাটি খুঁড়ে প্লাস্টিকের কৌটা বের করেন। পরে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সেটি নিয়ে বাড়ির পেছনের দিকে চলে যান।
পরে স্থানীয়দের সামনে ফুটেজ দেখানো হলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বানিয়াপাড়া বারাদি গ্রামের মোমিন খান (৩৬) ও আলাল (২২)-কে শনাক্ত করা হয়।
এরপর গাংনী থানা ও বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে আলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পলাতক মোমিন খানের শ্বশুরবাড়ি থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের বড় একটি অংশ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে দুটি নেকলেস, তিন জোড়া কানের দুল, একটি ব্রেসলেট, তিনটি চেইন, একটি লকেট, সাতটি বালা এবং একটি বেঙ্গল বালা।
গাংনী থানার ওসি মুজাদ্দিদ মোরশেদ চৌধুরী বলেন, ‘পলাতক আসামি মোমিন খানকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকার আদালতের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান।’