

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নে তিস্তা নদীর আকস্মিক বন্যায় আঞ্চলিক সড়ক ভেঙে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে অন্তত ২ হাজার পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে এ প্লাবন দেখা দেয় এবং বৃহস্পতিবার পানি নেমে যাওয়ার সময় সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বুধবার সন্ধ্যা থেকে তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ করে প্রায় ২ থেকে ৩ ফুট বৃদ্ধি পায়। এতে দহগ্রাম ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিসটিয়ারপাড়, আঙ্গোরপোতা, ডাঙ্গাপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, প্রধানপাড়া, ওলেরপাড় ও সাকোয়াপাড়া সহ অন্তত ১০টি এলাকা প্লাবিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও রেখে যায় ধ্বংসচিহ্ন।
স্থানীয়দের দাবি, আকস্মিক এ বন্যায় তাদের প্রায় ৫০০ একর রোপায়িত আমন ধানের জমি তলিয়ে গেছে। তবে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় ফসলের উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
পানি নামার সময় দহগ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সৃষ্টিয়ারপাড় এলাকায় সাকোয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিসটিয়ারপাড় থেকে আঙ্গোরপোতা ও পাটগ্রামগামী আঞ্চলিক পাকা সড়কের প্রায় ২০ ফুট অংশ ভেঙে অন্তত ১০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
এর ফলে ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২ হাজার পরিবারের যাতায়াত পথ বন্ধ হয়ে গেছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু, বৃদ্ধ এবং গৃহপালিত পশু নিয়ে বসবাসকারী পরিবারগুলো।
দহগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সালাম মিয়া (৪৫) বলেন, "সকালে এসে দেখি রাস্তা ভেঙে গেছে। এ রাস্তা ঠিক না করলে চলাচল করা কোনোভাবেই সম্ভব না। ভাঙা রাস্তার পাশ দিয়ে পার হতে গেলেও গর্তে পড়ে যাওয়ার ভয় কাজ করছে। আমরা চরম বিপদে আছি।"
এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন জানান, "বন্যায় সড়ক ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি জানার পরপরই সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছি। সড়ক বিভাগ খুব দ্রুত লোক পাঠিয়ে রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে নিশ্চিত করেছে।