শনিবার
২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিবির কর্মী হত্যা মামলার আসামির মেয়ের বিয়ে খেলেন জামায়াত এমপি

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
আওয়ামী লীগ নেতা মহিদুল ইসলাম মন্টুর মেয়ের বিয়েতে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালিব ।। ছবি: সংগৃহীত
expand
আওয়ামী লীগ নেতা মহিদুল ইসলাম মন্টুর মেয়ের বিয়েতে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালিব ।। ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে একটি বিয়ের দাওয়াতকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। শামীম হোসেন নামে শিবিরকর্মী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামির মেয়ের বিয়ের দাওয়াতে যান ঝিনাইদহ-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য (এমপি) আবু তালিব। এ সময় জামায়াতের এমপিকে নিজ হাতে বেড়ে খাওয়াতে দেখা গেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা মহিদুল ইসলাম মন্টুকে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) কালীগঞ্জ উপজেলার বগেরগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মহিদুল ইসলাম মন্টু কালীগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিজ বাড়িতে মহিদুল ইসলাম মন্টুর মেয়ে মেহেজাবিন ইসলাম তুলির সঙ্গে কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মারুফ বিল্লাহর বিয়ের আয়োজন ছিল বৃহস্পতিবার। সেখানে দাওয়াতে যান ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালিব।

এছাড়াও এ বিয়েতে আসেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তবিবুর রহমান মিনি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওহিদুজ্জামান ওদু, আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসেরসহ আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের অন্যান্য নেতারা।

জানা গেছে, শিবিরকর্মী শামীম হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মহিদুল ইসলাম মন্টু। শামীমের বাবা রুহুল আমিন এ মামলার বাদী।

মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ বিকাল ৫টার দিকে শহরের মাহতাব উদ্দিন কলেজের পূর্ব পাশের গেটের সামনে থেকে দুই মোটরসাইকেলে থাকা সাদা পোশাকধারী চারজন শামীমকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর বিভিন্ন অফিসে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পায়নি পরিবার। পরে ২০১৬ সালের ১৩ এপ্রিল যশোর সদরের লাউখালি গ্রামের শশ্মানঘাট এলাকায় তার গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন রুহুল আমিন। মামলায় মন্টুসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রাজনৈতিক কর্মী বলেন, শিবিরকর্মী হত্যা মামলার আসামির মেয়ের বিয়ের দাওয়াতে গিয়ে খাইলেন জামায়াতের এমপি। এটা একদমই লজ্জার বিষয়।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আবু তালিব বলেন, ওই ইউনিয়নে আমার গ্রামের বাড়ি। সমাজ ও সামাজিকতার কারণে গিয়েছি। ওই হত্যা মামলায় আমিই সাবেক চেয়ারম্যান মন্টুর নাম দিয়েছি। মামলায় যাতে ভুক্তভোগী পরিবার সঠিক বিচার পায়, সে ব্যবস্থাও করা হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন