রবিবার
১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি’র অভিযোগে বহিরাগতকে গণপিটুনি, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

যশোরের সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজে গভীর রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে চন্দন নামে এক বহিরাগত যুবককে গণপিটুনি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত এমএম কলেজ ক্যাম্পাস, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল চত্বর এবং শহরের দড়াটানা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রেলগেট এলাকার চন্দন দীর্ঘদিন ধরে এমএম কলেজ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে আসছিলেন। কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর সম্প্রতি আবারও সক্রিয় হন। শনিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে মোটরসাইকেলে একজন সহযোগীকে নিয়ে কলেজের আসাদ হলের সামনে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের দাবি, এত রাতে ক্যাম্পাসে প্রবেশের কারণ জানতে চাইলে চন্দন ক্ষিপ্ত হয়ে চাকু বের করে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখান। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগ আমলের মতো কলেজ পরিচালনার কথাও বলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে আহত অবস্থায় তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পর রাত ১২টার দিকে আসাদ হলের সামনে থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাস থেকে হাসপাতাল চত্বর পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত হাসপাতাল চত্বর, দড়াটানা ও আশপাশের এলাকায় দফায় দফায় প্রতিবাদ মিছিল অব্যাহত থাকে।

প্রতিবাদ মিছিলে এমএম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বিল্টু, সহ-সভাপতি সরোয়ার হোসেন, ছাত্রশিবিরের নেতা লিখন ও ইব্রাহিম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সোইয়াবে আক্তারসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বিল্টু অভিযোগ করেন, রেলগেট এলাকার চন্দন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং অতীতে টর্চার সেলের নেতৃত্ব দিতেন। ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে তিনি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতেন। সম্প্রতি তারা আবারও ক্যাম্পাসে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, প্রাথমিক তদন্তে চন্দনের ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান বলেন, "অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চন্দন বলেন, তার মোটরসাইকেলের পেছনে বসা একজনের হাতে সিগারেট ছিল। সেটি নিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ৫০ থেকে ৬০ জন হকি স্টিক ও লাঠিসোটা নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে তিনি কখনোই সম্পৃক্ত ছিলেন না।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
France VS Spain
Scheduled
15 Jul, 01:00 AM
VS
World Cup