শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরের ৬ আসনে ৩৫ প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ  

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
যশোরের ৬ আসনে ৩৫ প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ  
expand
যশোরের ৬ আসনে ৩৫ প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ  

যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনে চূড়ান্ত ৩৫ জন প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পুরোদমের প্রচারণা।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীক বুঝে নেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান প্রতীক বরাদ্দ প্রদান করেন। তিনি জানান, সব প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে প্রচারণা চালাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যশোরের ছয় আসনে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

যশোর-১ (শার্শা) আসনে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জামায়াতের মুহাম্মদ আজিজুর রহমান পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা, বিএনপির মো. নুরুজ্জামান লিটন ধানের শীষ, জাতীয় পার্টির মো. জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল লাঙ্গল এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. বকতিয়ার রহমান হাতপাখা প্রতীক পেয়েছেন।

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে লড়ছেন ৮ জন প্রার্থী।

বিএনপির মোছা. সাবিরা সুলতানা ধানের শীষ, জামায়াতের মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দীন ফরিদ দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলনের মো. ইদ্রিস আলী হাতপাখা, বাসদের মো. ইমরান খান মই, বিএনএফের মো. শামসুল হক টেলিভিশন এবং এবি পার্টির রিপন মাহমুদ ঈগল প্রতীক পেয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জহুরুল ইসলাম ঘোড়া ও মো. মেহেদী হাসান ফুটবল প্রতীক পেয়েছেন।

এ আসনে জহুরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের কাগজপত্র জমা দেননি।

যশোর-৩ (সদর) আসনে ৬ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।

বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ধানের শীষ, জামায়াতের মো. আব্দুল কাদের দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন হাতপাখা, জাতীয় পার্টির মো. খবির গাজী লাঙ্গল, জাগপার মো. নিজামুদ্দিন অমিত চশমা এবং সিপিবির মো. রাশেদ খান কাস্তে প্রতীক পেয়েছেন।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৭ জন।

স্বতন্ত্র এম. নাজিম উদ্দীন আল আজাদ মোটরসাইকেল, বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজি ধানের শীষ, জামায়াতের মো. গোলাম রসুল দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলনের বায়েজীদ হোসাইন হাতপাখা, জাতীয় পার্টির মো. জহুরুল হক লাঙ্গল, খেলাফত মজলিসের মাও. আশেক এলাহী দেয়াল ঘড়ি এবং বিএমজেপির সুকৃতি কুমার মণ্ডল রকেট প্রতীক পেয়েছেন।

যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে লড়ছেন ৫ জন।

বিএনপির রশীদ আহমাদ ধানের শীষ, জামায়াতের গাজী এনামুল হক দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলনের মো. জয়নাল আবেদীন হাতপাখা, জাতীয় পার্টির এম এ হালিম লাঙ্গল এবং স্বতন্ত্র শহীদ মো. ইকবাল হোসেন কলস প্রতীক পেয়েছেন।

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতীক পেয়েছেন।

বিএনপির মো. আবুল হোসেন আজাদ ধানের শীষ, জামায়াতের মো. মোক্তার আলী দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলনের মো. শহিদুল ইসলাম হাতপাখা, জাতীয় পার্টির জিএম হাসান লাঙ্গল এবং এবি পার্টির মো. মাহমুদ হাসান ঈগল প্রতীক পেয়েছেন।

প্রতীক বরাদ্দ শেষে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুক হক সাবু বলেন, দীর্ঘদিন পর মানুষ একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশা দেখছে। তার দাবি, এবারের নির্বাচনে জনগণের মতামতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটবে।

অন্যদিকে সিপিবির প্রার্থী রাশেদ খান অভিযোগ করেন, নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে এখনও বিভিন্ন স্থানে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে। বাসদের প্রার্থী ইমরান খান বলেন, রাতের ভোট ও ভোট কারচুপির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে যশোরে নির্বাচনী মাঠ এখন সরগরম। আগামী কয়েক সপ্তাহে প্রার্থীদের প্রচারণা ও রাজনৈতিক তৎপরতায় জেলা আরও মুখর হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X