বৃহস্পতিবার
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এনপিবিতে সংবাদ প্রকাশের পর

সেই শাহীনের কবল থেকে ১৩ বছর পর সরকারি কোয়ার্টার দখলমুক্ত

এম এ রাজা, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
ফাইল ছবি
expand

এনপিবি নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের সরকারি কোয়ার্টার থেকে দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর পর সরে গেলেন শাহীনুর কামাল শাহীন। সরকারি চাকরিজীবী না হয়েও দীর্ঘদিন ধরে কোয়ার্টার দখলে রাখার অভিযোগ ওঠা শাহীন গত ৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে মালামাল নিয়ে কোয়ার্টার ছেড়ে চলে যান।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর উপজেলা প্রশাসনের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাদ বিন জাহাঙ্গীর। তিনি জানান, শাহীন কোয়ার্টার ছেড়ে মালামাল নিয়ে চলে গেছেন।

তবে দীর্ঘদিন কোয়ার্টারে বসবাসকালে তার ব্যবহৃত বিদ্যুতের প্রায় দেড় লাখ টাকা বকেয়া বিল পরিশোধ না করেই তিনি চলে গেছেন বলে পিডিবি সূত্রে জানা গেছে। ফলে দীর্ঘদিনের এই বকেয়া বিল কে বা কীভাবে পরিশোধ করবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

পিডিবি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের কারণে গত জুলাই মাসের শেষ দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে ওই কোয়ার্টারে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়। ফলে এখন থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হলে আগে মিটারে টাকা রিচার্জ করতে হবে। এতে নতুন করে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া হওয়ার সুযোগ থাকবে না।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আবু জাহের বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় তিন মাস ধরে বিষয়টি দেখছেন। কোয়ার্টার ছাড়ার আগে শাহীনের কাছে ওই তিন মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে বলা হয়েছিল। তবে পিডিবি সূত্র জানিয়েছে, শাহীন কোনো বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেননি।

এর আগে গত ২২ আগস্ট এনপিবি নিউজে “সরকারি কোয়ার্টার দখল করে ১৩ বছর বসবাস, উপজেলায় ‘দ্বিতীয় ইউএনও’ শাহীন” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে সরকারি চাকরিজীবী না হয়েও দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস এবং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কাজে তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

অভিযোগ ছিল, শাহীনুর কামাল শাহীন সদর উপজেলা কার্যালয়সংলগ্ন দুটি সরকারি কোয়ার্টার দখলে রেখেছিলেন। এর একটি পরিবার নিয়ে বসবাস এবং অন্যটি ব্যক্তিগত গাড়ির গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি কক্ষ ব্যবহার করে সেখানে কম্পিউটার, টেবিল ও চেয়ার বসিয়ে নিজের মতো করে অফিস পরিচালনার অভিযোগও ছিল। ওই কক্ষে বসে জন্মনিবন্ধন সংশোধন, মৃত্যু নিবন্ধন, নাম ও বয়স পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা সংক্রান্ত কাজে দালালি করার অভিযোগ করেন স্থানীয় ও কয়েকজন ভুক্তভোগী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শাহীন উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে প্রভাব বিস্তার করতেন। এমনকি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটার, ইউএনও কার্যালয়ের প্রশাসনিক ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন কাজ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

জন্মনিবন্ধন সংশোধন, বয়স ও নাম পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কাজে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে টাকা নেওয়া এবং টাকা না দিলে আবেদন আটকে রাখার অভিযোগও করেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

এ ছাড়া বয়স্ক ও বিধবা ভাতা, কৃষি কার্ড, মৎস্যজীবী কার্ড, যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, গ্রাম পুলিশ নিয়োগ, ইমাম ও হাফেজ নিয়োগ এবং সরকারি টেন্ডারসহ বিভিন্ন কাজে প্রভাব বিস্তার ও দালালির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা প্রশাসনের সরকারি ওয়েবসাইটে একসময় শাহীনের ছবি, নাম ও মোবাইল নম্বরের পাশাপাশি ‘উপজেলা আইসিটি টেকনিশিয়ান’ পদবি উল্লেখ থাকার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে আসে। তবে এ পদে তার সরকারি নিয়োগের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছিল।

বর্তমান ইউএনও আব্দুল্লাহ আবু জাহের দায়িত্ব নেওয়ার পর শাহীনকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং তার কাছ থেকে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র নিয়ে নেওয়া হয় বলে জানা যায়। এরপরও তিনি সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করে আসছিলেন।

অবশেষে এনপিবি নিউজে সংবাদ প্রকাশের প্রায় ১৫ দিন পর গত ৮ সেপ্টেম্বর তিনি কোয়ার্টার ছেড়ে চলে যান। এতে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কোয়ার্টার দখলে রাখার অভিযোগের অবসান হলেও প্রায় দেড় লাখ টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিলসহ সরকারি সম্পদ ব্যবহারের বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি কোয়ার্টারে দীর্ঘদিন বসবাস, বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল বকেয়া এবং সরকারি সেবা নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের দায় কার এবং কীভাবে তা আদায় করা হবে, সেটিও স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank