সোমবার
১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে পুকুর থেকে পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত।
expand
ছবি : সংগৃহীত।

গোপালগঞ্জে বিএম মাহমুদুল ইসলাম নোবেল (৩৮) নামে পুলিশের এক সাব-ইনস্পেক্টরের মরদেহ পুকুর উদ্ধার করেছে পুলিশ।নিহত ওই পুলিশ কর্মকর্তা খাগড়াছড়ির মহালছড়ি এপিবিএন এ কর্মরত ছিলেন।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী ফাতেমা কানিজ ও শ্বশুর কবিরুল ইসলাম ওরফে ঝুনু শেখকে পুলিশ আটক করেছে।

সোমবার ( ২৭ জুলাই ) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি গ্রামের শ্বশুরাড়ির পাশের পুকুর থেকে ওই পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয় । নিহত পুলিশ কর্মকর্তা বিএম মাহমুদুল ইসলাম নোবেল গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিজয়পাশা গ্রামের হায়দার আলী ভূইয়ার ছেলে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) সরকারি কাজে গোপালগঞ্জে আসেন মাহমুদুল। কাজ শেষে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে উঠেন । আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে পাইকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামে শ্বশুর ঝুনু শেখের বাড়ির পাশের একটি পুকুরে স্থানীয়রা পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ ভসতে দেখে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে । পরে সুরাতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহত পুলিশ কর্মকর্তার বড় ভাই বি এম আশিকুজ্জামান বলেন, আমার ভাইয়ের স্ত্রী বাবার বাড়িতে বসবাস করেন । তাই ভাই ছুটিতে এলে, আমাদের বাড়িতে না এসে, শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। এবার ছুটিতে বাড়িতে আসার পর শ্যালককে বিদেশে পাঠানোর টাকা নিয়ে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। আমার ধারণা, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে হত্যা করেছে । আমি এ হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে ন্যয্য বিচার দাবি করছি।

নিহতের ছোট বোন নাদিরা সুলতানা বলেছেন, আমার ভাবি-ভাইকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে দিত না। এর আগে ভাবি আমার ভাইকে দুইবার খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে মারতে চেয়েছিলেন । আমরা সন্দেহ করছি, ভাবি ও তার বাড়ির লোকজন ভাইকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। আমরা এ হত্যাকান্ডের বিচার চাই।

গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার পুলিশ সদস্য মাহমুদুল কর্মস্থল থেকে ছুটিতে শ্বশুরবাড়িতে আসেন। আজ সোমবার সকালে শ্বশুরবাড়ির অদূরে একটি পুকুরে তার মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরাতহাল প্রতিবেদন শেষে গোপালগঞ্জ ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী ও শ্বশুরকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরর প্রস্তুতিও চলেছে বলে জানান ওসি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank