বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর শিশু পরিবারে কিশোরীর অন্তঃসত্ত্বার ঘটনায় তদন্তে তিন কারণ চিহ্নিত

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪০ এএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

ফরিদপুরের সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)-এর এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে।

এর মধ্যে শিশু পরিবারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বহীনতা, অবহেলা ও তদারকির ঘাটতিকেই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলামের কাছে জমা দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশু পরিবারের তত্ত্বাবধায়কসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সংবেদনশীলতা ও সতর্কতা প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছেন। নিবাসীদের চলাফেরা, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি এবং সার্বিক তদারকিতে গুরুতর ঘাটতি ছিল।

এমনকি একজন কিশোরী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি দীর্ঘ সময় ধরে কর্তৃপক্ষের অজানা থাকা তদন্ত কমিটির মতে চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতার পরিচায়ক।

প্রতিবেদনে দ্বিতীয় কারণ হিসেবে ভুক্তভোগী কিশোরীর সামাজিক ও পারিবারিক বাস্তবতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। দারিদ্র্য, মায়ের মৃত্যুর পর প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং সহানুভূতির প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীল মানসিকতা তাকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

তৃতীয় কারণ হিসেবে অভিযুক্ত দর্জি ব্যবসায়ীর বিকৃত মানসিকতা ও ধর্ষণপ্রবণ আচরণকে দায়ী করেছে তদন্ত কমিটি।

তদন্ত চলাকালে শিশু পরিবারের ব্যবস্থাপনায় একাধিক অসঙ্গতি শনাক্ত করা হয়। এসব বিবেচনায় তত্ত্বাবধায়কের পদে নারী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে নিবাসীদের প্রতি আরও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

পাশাপাশি মাসে অন্তত একবার সকল নিবাসীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রতিষ্ঠানে আগত দর্শনার্থীদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন এবং তাদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের সুপারিশও করা হয়েছে।

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শিশু পরিবারের ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিভাগীয় তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত প্রতিবেদন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

একই সঙ্গে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকায় অবস্থিত সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)-এর এক ১৪ বছর বয়সী নিবাসী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরদিন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। পরে ৭ জুলাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন